
পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ও আবেগঘন শব্দগুলোর একটি হলো ‘মা’। ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সীমাহীন ভালোবাসা, মমতা, ত্যাগ, নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের অনুভূতি। জন্মের পর মানুষ প্রথম যার মুখ দেখে, যার স্পর্শে শান্তি খুঁজে পায়, তিনিই মা।
শিশুর কথা বলা থেকে শুরু করে দুই পায়ে হাঁটা, ভালো মন্দ শেখা কিংবা জীবনের প্রথম শিক্ষাগুলো সবই শুরু হয় মায়ের হাত ধরেই। তাই মা শুধু একজন অভিভাবক নন, তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক ও জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।
মায়ের ভালোবাসার কোনো তুলনা হয় না। সন্তানের সুখের জন্য মা নিজের কষ্টও হাসিমুখে সহ্য করেন। একজন মা সবসময় সন্তানের ভালো থাকার জন্য চিন্তা করেন এবং তার চাহিদা পূরণে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যান। শহরের ব্যস্ত জীবন হোক কিংবা গ্রামের সংগ্রামী বাস্তবতা, মায়েরা সারাদিন পরিশ্রমের পাশাপাশি সন্তানের যত্ন নিতে কখনো ক্লান্ত হন না। সন্তানের খাওয়া দাওয়া, পোশাক, পড়াশোনা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের ভাবনার শেষ নেই। ইসলামে মায়ের মর্যাদা সম্পর্কে বলা হয়েছে, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত।
প্রতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় মা দিবস । ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আনা জার্ভিস মা দিবস পালনের সূচনা করেন। এরপর ধীরে ধীরে দিনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। মা দিবস মূলত মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি বিশেষ আয়োজন।
মা দিবসে মাকে ঘিরে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, মায়ের ভালোবাসা জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। মায়ের দোয়া, ত্যাগ ও অনুপ্রেরণাই সন্তানকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহস জোগায়। সেই কথাগুলোই জানিয়েছেন প্রতিবেদক মো সিনান মোর্শেদ।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিলা ইসলাম সিমি । মা ও মাতৃত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, মা শব্দটি প্রতিটি মানুষের জন্যই অনেক দামী। আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। আমার মা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ত্যাগ আমাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে। জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে তিনি আমার পাশে থেকেছেন, ভরসা দিয়েছেন। আমি তাঁর কাছ থেকে সততা ও পরিশ্রমের মূল্য শিখেছি। মা দিবসে আমি আমার মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই এবং প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, তাঁর স্বপ্ন পূরণে সবসময় চেষ্টা করে যাব।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী অর্ণব আবরার আলভি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, মা শুধু একটা শব্দ না, মা মানে হাজার কষ্টের মাঝেও শান্তির একটা জায়গা। পুরো পৃথিবী ভুল বুঝলেও মা নিঃশর্তভাবে পাশে থাকেন। দুনিয়াতে সবাই প্রতিদান চায়, শুধু মা বিনিময় ছাড়াই ভালোবাসেন। হাজারো ভুলের পরও মা বুকে টেনে নেন, যা আর কেউ পারে না। পৃথিবীর সব রত্নের চেয়েও দামি আমার মায়ের হাসি। বৃষ্টিভেজা জ্বরের রাতে আজও মায়ের কথা খুব মনে পড়ে। মনে পড়ে মায়ের বুকের উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে যাওয়ার সেই দিনগুলো। মায়ের শরীরের যে ঘ্রাণ, তা কোনো পারফিউমের ঘ্রাণ নয়। জন্মের পর থেকে সেই ঘ্রাণেই আমি নিরাপত্তা খুঁজে পেয়েছি। শহরে এসে অনেক নামি দামি সুগন্ধ পেলাম, কিন্তু মায়ের ঘ্রাণ আর পেলাম না। বন্ধু বান্ধব সবার ভালোবাসা পেয়েছি, কিন্তু মায়ের মতো নিখুঁত ভালোবাসা পাইনি। মন খারাপ হলে না বললেও মা ঠিকই বুঝে যান। মানুষ পরিবর্তনশীল হলেও মায়ের ভালোবাসা কখনো পরিবর্তন হয় না। তোমার মতো এত যত্ন করে আমাকে আর কেউ ভালোবাসেনি, মা। শুধু মা দিবসে নয়, প্রতিটা দিনই তোমার জন্য ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় ভরা।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মো তোফায়েল আহমেদ নিজের অনুভূতি তুলে ধরে বলেন, মা এক আবেগ অনুভূতির নাম। মা দিবস শুধু একটি দিন না, এটা সেই মানুষটার প্রতি নীরব কৃতজ্ঞতা, যিনি নিজের স্বপ্নগুলো আড়াল করে সন্তানের স্বপ্ন গড়ে দেন। জীবনে অনেক মানুষ আসবে, চলে যাবে, কিন্তু মায়ের মতো কেউ নিঃস্বার্থ হবে না। কারণ পৃথিবীতে একমাত্র মা ই বিনিময় ছাড়া ভালোবাসেন। এখনো বাড়ি থেকে আসলে মা পিছন পিছন আসতে থাকে, যতদূর দৃষ্টি যায়। আমাদের জীবনের পথ চলা যখন কঠিন হয়ে যায়, তখন মায়ের দোয়া ও সাহস সন্তানকে নতুন করে দাঁড়াতে শেখায়। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, মা দিবসকে শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনে উদযাপন করতে চাই না, বছরের প্রত্যেকটি দিনই মা দিবস। মাকে ভালোবাসতে গেলে, স্মরণ করতে হলে আলাদা কোনো দিনের প্রয়োজন নেই। তাই মা দিবসে সবচেয়ে সুন্দর উপহার হয়তো দামি কিছু নয়, বরং মায়ের পাশে বসে কিছু সময় কাটানো, তাঁর কষ্টগুলো বোঝার চেষ্টা করা, আর ভালোবেসে বলা, মা, তোমার জন্যই আজ আমি এতটা পথ চলতে পেরেছি। মা দিবসে পৃথিবীর সকল মায়েদের জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মুয়াজ ইবনে জামান মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, মা একটি আবেগের নাম, একটি ভালোবাসার নাম, একটি আশ্রয়ের নাম, একটি বিদ্যালয়ের নাম, একটি স্নেহের নাম, একটি অস্তিত্বের নাম। মায়েরা শুধু একজন ব্যক্তি নন বরং তারা একটি আত্মত্যাগের উদাহরণ, তারা তপ্ত দুপুরে প্রশান্তির ছায়া, তারা শরৎকালে দোলা শুভ্র কাশফুল, তারা তীব্র শীতে সোনালি সূর্যের আলো, তারা অসহায়ত্বের সময় মাথায় রাখা হাত, তারা সকলে একেকজন বিশ্বস্ত ঠিকানা। কর্মব্যস্ততা বা পড়াশোনার জন্য মায়ের থেকে দূরে কাটানো প্রত্যেকটা সময় হৃদয়ের কোণে একটা শূন্যতা ও হাহাকার জন্ম দেয়। অনুভব করায় একটি গভীর অসহায়ত্ব। নিঃসন্দেহে মা রবের দেওয়া শ্রেষ্ঠ ও উত্তম উপহার। তাই এই মা দিবসে মায়েদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের যত্ন নেওয়া হোক আমাদের প্রত্যেকের একান্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।