প্রিন্ট এর তারিখঃ May 11, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 11, 2026 ইং
গাজীপুরে ৫ খুন, ফরেনসিক প্রতিবেদনে লোমহর্ষক তথ্য

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক প্রতিবেদনে লোমহর্ষক তথ্য উঠে এসেছে। ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। আর দেড় বছরের এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) বিকেলে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মাজহারুল হক গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে শনিবার সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন-গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামের শাহাদাত হোসেন মোল্লার মেয়ে শারমিন খানম (৩০), তার মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (দেড় বছর) এবং শারমিনের ভাই রসুল মোল্লা (২৩)।
নিহতদের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামে। তারা কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের সিঙ্গাপুরপ্রবাসী মজিবুর রহমানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা গোপালগঞ্জ সদরের গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে। তিনি প্রাইভেটকার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চিকিৎসক মাজহারুল হক জানান, নিহত শারমিন খানম, তার ভাই রসুল মোল্লা এবং দুই মেয়ে মীম ও উম্মে হাবিবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে ছোট শিশু ফারিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
তিনি বলেন, কীভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে, তা ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের আগে তাদের চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা জানতে পেটের খাবারসহ অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ল্যাব প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহের পাশে একটি লিখিত অভিযোগপত্র বা জিডির কপি পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। ওই কাগজে ফোরকান মোল্লা তার স্ত্রী শারমিনের বিরুদ্ধে পরকীয়া এবং শ্যালকের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছিলেন বলে দাবি করা হয়।
তবে এ অভিযোগের সত্যতা নিয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনিসুর রহমান জানান, স্ত্রীকে দায়ী করে নিহতদের পাশে যে জিডির কপি পাওয়া গেছে, তা সঠিক নয়। এমন কোনো জিডি গোপালগঞ্জ সদর থানায় হয়নি বলে জানান তিনি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭