প্রিন্ট এর তারিখঃ May 13, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 13, 2026 ইং
ট্রাফিক আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা, ঢাকায় চালু এআই ক্যামেরা নজরদারি

রাজধানী ঢাকার সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারিতে যাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলেই আর পুলিশের হাতে ধরা পড়ার অপেক্ষা নয়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা তৈরি করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এআই ক্যামেরা।
নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো যানবাহন লাল সিগন্যাল অমান্য করলে, উল্টো পথে চললে কিংবা নির্ধারিত ট্রাফিক নিয়ম ভাঙলে তা ক্যামেরায় শনাক্ত হবে। এরপর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ডাটাবেজ থেকে গাড়ির মালিকের তথ্য সংগ্রহ করে ডিজিটাল মামলা প্রস্তুত করা হবে। মামলার তথ্য সরাসরি পাঠানো হবে মালিকের মোবাইল ফোন ও ঠিকানায়।
প্রাথমিকভাবে রাজধানীর ৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ সংখ্যা ৬০টিতে এবং এক বছরের মধ্যে ১২০টি স্থানে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গুলশান-২, বনানীসহ রাজধানীর ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে হাই-ডেফিনিশন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা সড়কে চলাচল করা প্রতিটি যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে সক্ষম।
ডিএমপি সূত্র জানায়, এরই মধ্যে ২ হাজারের বেশি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪০০টির বেশি মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
নতুন এই উদ্যোগকে অনেক চালক ইতিবাচকভাবে দেখছেন। মোটরসাইকেল চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, “ক্যামেরার ভয়ে হলেও মানুষ নিয়ম মানবে, এটা ভালো উদ্যোগ।”
তবে কিছু চালক এ ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। প্রাইভেটকার চালক রাকিবুল হাসান বলেন, “ডাটাবেজে ভুল থাকলে নির্দোষ মানুষও জরিমানার মুখে পড়তে পারে-এটাই বড় ভয়।”
ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা বলছেন, এআই ক্যামেরা চালুর ফলে তাদের কাজ কিছুটা সহজ হয়েছে। আগের তুলনায় অনেক চালক এখন সিগন্যাল মানার বিষয়ে বেশি সচেতন।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, নতুন প্রযুক্তি চালুর শুরুতে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও ধীরে ধীরে এটি ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনবে।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি আধুনিক ও শৃঙ্খলাপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।”
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭