প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 16, 2026 ইং
ভারতের কামাল মওলা মসজিদকে সরস্বতীর মন্দির ঘোষণা করল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভারতের ঐতিহাসিক কামাল মওলা মসজিদকে সরস্বতীর মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা ও বিচারপতি অলোক আওয়াস্থির বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, ভোজশালায় একসময় সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র ও সরস্বতীর মন্দির ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। আদালতের ভাষ্য, ওই স্থানে হিন্দু পূজার ধারাবাহিকতা কখনো পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি।
আদালত আরও বলেছে, ঐতিহাসিক সাহিত্য থেকে প্রতিষ্ঠিত হয় যে বিতর্কিত স্থাপনাটির চরিত্র ছিল ভোজশালা, যা পরমার রাজবংশের রাজা ভোজের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র ছিল।
রায়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে জেলায় মসজিদ নির্মাণের জন্য পৃথক জমি বরাদ্দ চেয়ে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, ভোজশালা রাজা ভোজ নির্মিত সরস্বতীর মন্দির। অন্যদিকে মুসলিম পক্ষের দাবি, স্থানটি বহু শতাব্দী ধরে কামাল মওলা মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
২০০৩ সালের ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব জরিপ বিভাগের (এএসআই) ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী, হিন্দু ও মুসলমানরা যথাক্রমে মঙ্গলবার ও শুক্রবার সেখানে প্রার্থনা করে আসছিলেন। তবে হিন্দু পক্ষ ওই আদেশ হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করে এবং কমপ্লেক্সটিতে উপাসনার একচেটিয়া অধিকার দাবি করে।
২০২৪ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট এএসআইকে ভোজশালা মন্দির-কামাল মওলা মসজিদ কমপ্লেক্সের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেয়। এরপর ২২ মার্চ সমীক্ষা শুরু করে এএসআই। ৯৮ দিনব্যাপী জরিপ শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
এএসআই প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারের পরমার রাজাদের শাসনামলের একটি বিশাল কাঠামো বর্তমান মসজিদের আগেই নির্মিত হয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান বিতর্কিত কাঠামোটি মন্দিরের পুনর্ব্যবহৃত অংশ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
হিন্দু পক্ষের দাবি, এএসআইয়ের বৈজ্ঞানিক জরিপে পাওয়া মুদ্রা, ভাস্কর্য ও শিলালিপি প্রমাণ করে যে চত্বরটি মূলত মন্দির ছিল। তবে মুসলিম পক্ষ আদালতে যুক্তি দেয়, এএসআইয়ের জরিপ প্রতিবেদন পক্ষপাতদুষ্ট এবং হিন্দু আবেদনকারীদের দাবিকে সমর্থন করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭