
ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেবা প্রদান জনগণের প্রতি করুণা নয়, বরং জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব। আমাদের লক্ষ্য একটি দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা, যা দেশের টেকসই উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।”
তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে ভূমির মালিকানা ও শরিকানার সংখ্যা বেড়েছে। ফলে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য রেকর্ডে রাখা এবং সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভূমি কর্মকর্তাদের দায়িত্বও বেড়েছে।
তিনি বলেন, মালিকানা, খাজনা, দলিল, খতিয়ান, দাগ, পর্চা, নামজারি, জমা-খারিজ, মৌজা, সিএস, আরএস বা ডিএস-এসব বিষয়ের সঙ্গে জমির মালিকরা কমবেশি পরিচিত। আগে এসব বিষয়ে সেবা নিতে মানুষকে ভূমি অফিসে যেতে হতো। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ভূমি ব্যবস্থাপনাও আধুনিক হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা যত বেশি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করা যাবে, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পথও তত সহজ হবে। অনলাইন সুবিধা নিশ্চিত হলে জমি-সংক্রান্ত দুর্ভোগ অনেকটা কমবে।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল ভূমিসেবার কারণে ভূমি অফিসগুলোতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে। চলমান ভূমিসেবা মেলা আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জনগণকে আরও সচেতন করবে।
তারেক রহমান বলেন, দেশের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমছে। এতে জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বাড়ছে, তেমনি জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা ও জটিলতাও বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ ব্যক্তি ও পরিবারের শান্তি নষ্ট করার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
এ বাস্তবতায় ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার, নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা সময়ের অপরিহার্য দাবি বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড প্রস্তুতে ভূমি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। ভূমি প্রশাসনের প্রায় সব সেবাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এনে নাগরিকদের জন্য সেবা গ্রহণ সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, যেখানে ভূমিসেবা গ্রহণের জন্য মানুষকে আর অযথা অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না, দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হতে হবে না।”
ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারা দেশে ভূমিসেবা মেলার আয়োজন এবং জমি ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ ও আধুনিক করার বিষয়টি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ ছিল।
তারেক রহমান বলেন, তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার আয়োজনের মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছে দেওয়া আরও একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে। সরকার পর্যায়ক্রমে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণের রাজনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার শুধু জমি-সংক্রান্ত বিষয়েই নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রে জনবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সারা দেশে বিভিন্ন পর্যায়ের আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মিলিয়ে ৪৭ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে জমি-সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাই বেশি। তাই বিচারাধীন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, প্রচলিত আদালতের পাশাপাশি জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালত ও এডিআর বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মতো আইনানুগ পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এতে অল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব হবে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিরোধ শত্রুতায় রূপ নেওয়া থেকেও রক্ষা পাবে।