প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 21, 2026 ইং
দলীয় অফিস করার নামে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজি বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

নড়াইলের মুলিয়া ইউনিয়নের মুলিয়া খেয়াঘাট বরাদ্দ নিয়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি ও বিএনপি অফিস করার নামে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিকের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পানতিতা গ্রামের রতন বিশ্বাস নামে এক মাঝি সরকারি বিধি মেনে মুলিয়া খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে যাত্রী পারাপার করতেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তাকে ঘাট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় দুই মাঝি দীপক বিশ্বাস ও অংশের নামে ঘাটের দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে মুলিয়া খেয়াঘাটে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইউনিয়ন বিএনপির অফিস করার কথা বলে দীপক বিশ্বাস ও অংশের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, টাকা নেওয়া হলেও এখনো বিএনপির কোনো অফিস করা হয়নি।
খেয়াঘাটের আগের মাঝি রতন বিশ্বাস বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। সরকারি খাস জমিতে বসবাস করি। আমার কোনো জায়গা-জমি নেই। এই ঘাটে নৌকায় যাত্রী পারাপার করে সংসার চালাতাম। আমার কাছে মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিল। আমি দিতে না পারায় আমাকে এখান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। বউ-ছেলে-মেয়ে নিয়ে এখন খুব কষ্টে আছি।’
নতুন মাঝি অংশ বলেন, মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক, চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারী, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শিহাবসহ বিএনপির কয়েকজন নেতা বসে তাকে ও দীপক বিশ্বাসকে ঘাটের দায়িত্ব দেন।
তিনি বলেন, ‘পরে ইউনিয়নে বিএনপির অফিস করবে বলে আমাদের কাছ থেকে মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে।’ তবে পরবর্তীতে তাকে বাদ দিয়ে শুধু দীপক বিশ্বাসকে ঘাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন অংশ।
এ বিষয়ে মুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, প্রতি বছরের মতো ঘাট ইজারা দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। পরে সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ তুলে দীপক বিশ্বাস জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে ডাকেন।
চেয়ারম্যান জানান, ইউনিয়ন পরিষদ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ইজারা দিতে পারে-এ সংক্রান্ত কাগজপত্র তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেন। পরে স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের কয়েকজন বিএনপি নেতা বসে দীপক বিশ্বাসকে ঘাটের দায়িত্ব দেন।
জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শিহাব বলেন, নদীপাড়ের মানুষ যাতে সহজে ও নির্বিঘ্নে পারাপার হতে পারে, সে জন্য কয়েকজন বসে ঘাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বিএনপি অফিস করার নামে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক বলেন, ‘অফিস করার জন্য ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম। সেই টাকা আমার কাছে রয়েছে।’
বিএনপি অফিস করার জন্য রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে টাকা নেওয়া যায় কি না-এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ‘ঝামেলায় আছি’ বলে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান আলেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭