প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 1, 2026 ইং
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল রানা ও স্ত্রীর বিচার শুরু

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১ জুন) শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।
এদিন অভিযোগ গঠনের পর আসামিদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তারা দোষী না নির্দোষ। জবাবে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। এ সময় আসামি সোহেল রানা আদালতে দাবি করেন, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের কোনো দোষ নেই।
এর আগে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কারাগার থেকে আসামিদের আদালতে আনা হয়। পরে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সকাল ১১টা ১০ মিনিটে তাদের এজলাসে নেওয়া হলে শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন করা হয়।
আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্রীয় খরচে ঢাকা বারের সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহকে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর শুনানি করেন।
এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে অভিযোগপত্র উপস্থাপন করা হয়। আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন।
একই দিন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু হলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে রামিসার মরদেহ পাওয়া যায় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থলে থাকা স্বপ্না আক্তারকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী মো. সোহেল রানা রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে হত্যা করেছেন।
এ ঘটনায় ১৯ মে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় দুজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। একই দিন আসামি স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭