প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 7, 2026 ইং
নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৭

নোয়াখালীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হৃদয়সহ উভয় পক্ষের অন্তত ৭ থেকে ৮ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ, ছাত্রদল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে বাঁধেরহাট বাজারে স্থানীয় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।
কর্মসূচি শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল বহর কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়ির পাশে পৌঁছালে সেখানে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত লোকজন মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘোষণা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হন। অভিযোগ রয়েছে, তারা ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রাহান অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু সশস্ত্র কর্মী-সমর্থক শনিবার বিকেলে মিছিল করার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে আওয়ামী লীগ নেতা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সেলিমের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
তিনি বলেন, “পরে ছাত্রদল কর্মী-সমর্থকরা ধাওয়া দিলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। আমরা এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।”
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল বলেন, “ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে আমরা বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত নেতাকর্মীদের হাসপাতালে ভর্তি করি। এ সময় হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।”
সুধারাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
এ বিষয়ে জানতে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মুঠোফোনে কল করা হলে রোববার সকাল ১০টার দিকে ওসির দায়িত্বে থাকা কামরুল ইসলাম জানান, ওসি তৌহিদুল ইসলামকে ক্লোজ করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি দায়িত্বে রয়েছেন। তবে কালাদরাপের সংঘর্ষের বিষয়ে তিনি এখনো বিস্তারিতভাবে অবগত নন বলে জানান।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭