প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 7, 2026 ইং
চারবার স্ট্রোকের পর গানে ফেরার আশা ছেড়েছেন রিংকু

ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতায় লোকগান ও বাউলগান গেয়ে আলোচনায় আসেন সংগীতশিল্পী মশিউর রহমান রিংকু। অল্প সময়েই শ্রোতাদের প্রিয় শিল্পীদের একজন হয়ে ওঠেন তিনি। গান নিয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন দেশ-বিদেশে। তবে সেই রিংকু এখন আর নিয়মিত গাইতে পারেন না; অসুস্থতার কারণে অনেকটাই ঘরবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন।
চারবার স্ট্রোকের পর গান থেকে একরকম ছিটকে পড়েছেন এই শিল্পী। মাঝেমধ্যে কিছুটা সুস্থ হয়ে গানে ফেরার স্বপ্ন দেখলেও এখন বাস্তবতা মেনে নিয়েছেন তিনি। জানেন, আগের মতো গানের জগতে আর ফেরা সম্ভব নয়। তবে তার একটাই অনুরোধ-তার গাওয়া গানগুলো যেন হারিয়ে না যায়।
২০২০ সালে দুবার স্ট্রোক করেন রিংকু। দ্বিতীয়বার স্ট্রোকের পর তার ডান হাত ও পা প্যারালাইজড হয়ে যায়। এরপর তিনি ফিরে যান নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বড় সাওতা গ্রামে নিজের বাড়িতে। এখনো ঠিকভাবে হাঁটতে ও কথা বলতে পারেন না তিনি।
সম্প্রতি ট্রাভেল ডকুমেন্টারি সিরিজ ‘পথের গল্প’র একটি পর্বে রিংকুর বর্তমান জীবন তুলে ধরা হয়েছে। পর্বটি সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে।
রিংকু বলেন, “পুরোপুরি গানে ফেরার ইচ্ছা আমার নেই। ইচ্ছা করলেও সেই সম্ভাবনা নেই। কারণ, চারবার স্ট্রোক হয়েছে, এর মধ্যে একবার-দুবার তো কেউ জানতই না। চারবার যখন স্ট্রোক হয়ে গেল, তখন আমি বুঝলাম সব আশা শেষ।”
তিনি আরও বলেন, “আমি যেভাবে ব্যাক করতে চাই, সেভাবে আর হবে না। পরিপূর্ণভাবে ব্যাক করতে না পারলে ব্যাক করার দরকার নেই। আমি মরে গেলেও গানগুলো তো থাকবে। একটাই আহ্বান আমার, গানগুলো যেন নষ্ট না হয়।”
একসময় গান নিয়েই ঢাকায় রিংকুর দিনরাত কাটত। সে সময় একটু আড়াল হলেই বন্ধু ও সহকর্মীরা কাজের জন্য খোঁজ নিতেন। তবে এখন অনেকেই আর খবর নেন না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।
রিংকুর ভাষায়, “শহরের মানুষের ভালোবাসা হচ্ছে কাজের জন্য ভালোবাসা। আর গ্রামের মানুষের ভালোবাসা অরিজিনাল। তারাই এখন আমার বন্ধু।”
তিনি বলেন, “একটা কথা আছে—কাজ করলে কাজী, কাজ ফুরালে পাজি। ঠিক তেমন হচ্ছে শহরের মানুষের ভালোবাসা। সেই সময়ের কোনো বন্ধুই নেই এখন। কেউ খোঁজ রাখে না। যদি কারও জন্য কিছু করে থাকি, সেটা আমি করেছি। কিন্তু কারও সিমপ্যাথি আমি চাই না।”
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭