প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 7, 2026 ইং
ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে চাপে লেবানন সেনাবাহিনী

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের স্থল অভিযান এবং হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলার মধ্যে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী কঠিন সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বৈরুতভিত্তিক লেভান্ট ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সামি নাদের।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাতের মাঝে লেবানন সেনাবাহিনী কার্যত কঠিন অবস্থানে পড়েছে।
কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক সামি নাদেরের মতে, লেবানন রাষ্ট্র এই সংঘাতে জড়াতে চায়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অবস্থান ধরে রাখা-দুটিই কঠিন হয়ে উঠেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, দক্ষিণ লেবাননে চলমান স্থল অভিযান ও দখলদারিত্বের মাধ্যমে ইসরায়েল ওই অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতা ও সীমান্ত পরিস্থিতি নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এর রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ পড়ছে লেবানন সরকারের ওপর।
সামি নাদের আরও বলেন, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং বৈরুত সরকার শুরু থেকেই দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে ইরানের আঞ্চলিক ভূরাজনীতি থেকে আলাদা রাখার অবস্থান নিয়েছিল। তবে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় লেবাননের রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় সরকারের সেই অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে মনে করেন তিনি।
তার ভাষ্য, ইসরায়েলের এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করছে।
আল জাজিরাকে সামি নাদের বলেন, আঞ্চলিক প্রতিশোধ ও ক্ষমতার রাজনীতির প্রেক্ষাপটে হিজবুল্লাহ লেবাননকে বড় সংঘাতের মধ্যে টেনে এনেছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় লেবানন সেনাবাহিনীর পক্ষে মাঠপর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সহজ নয়।
তিনি আরও বলেন, একদিকে হিজবুল্লাহ লেবাননের নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের সিদ্ধান্ত ও যুদ্ধবিরতির শর্ত মানতে অনীহা দেখাচ্ছে এবং অস্ত্র সমর্পণে রাজি নয়; অন্যদিকে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহকে নির্মূল করার কথা বলে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭