প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 8, 2026 ইং
বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হয়

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউনেপের ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স প্রতিবেদনে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত সংখ্যাটি সামগ্রিক হিসাব বলে জানান তিনি।
সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, ইউনেপের ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স প্রতিবেদনে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয়ের তথ্য উঠে এসেছে। দেশে খাদ্যের অপচয় রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে খাদ্য মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নেবে।
জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে তা খাদ্য গুদাম ও সাইলোতে সংরক্ষণ করা হয়। পরে সরকারের বিভিন্ন খাতে এসব গুদাম ও সাইলো থেকে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়।
তিনি জানান, এই ব্যবস্থাপনায় কিছু খাদ্যশস্য নষ্ট হয়। তবে নতুন আধুনিক সাইলো ও খাদ্য গুদাম নির্মাণ, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সচেতনতা বৃদ্ধি, খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে খাদ্যশস্যের অপচয় পর্যায়ক্রমে কমানো হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৮৮৭ দশমিক ৩৪৭ মেট্রিক টন, যা শতকরা হিসাবে শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ।
অন্যদিকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৩২৯ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন, যা শতকরা হিসাবে শূন্য দশমিক ৩১৬ শতাংশ।
উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের ঘাটতি বা অপচয় আগের অর্থবছরের তুলনায় কমেছে বলে জানান খাদ্য প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদতা নিশ্চিত করা এবং খাদ্যের অপচয় রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের অপচয় ও ক্ষতি কমাতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭