প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 10, 2026 ইং
নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ খারিজ, আদালতে খালাস

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানার বিরুদ্ধে করা আলোচিত মামলায় দুজনকেই খালাস দিয়েছেন ঢাকার আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত রায়ে জানায়, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণের মতো পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মামলার সূত্রপাত হয় ২০২১ সালে। ওই সময় তামিমা সুলতানার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান ঢাকার আদালতে মামলা করেন। মামলায় তিনি দাবি করেন, ২০১১ সালে তামিমার সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তার অভিযোগ ছিল, বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন।
বাদীপক্ষের দাবি অনুযায়ী, নাসির ও তামিমার বিয়ের আগে বৈধভাবে বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়নি। ফলে পরবর্তী বিয়েটি অবৈধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধের শামিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে তা আইনি জটিলতায় রূপ নেয়। অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, নাসির হোসেন তামিমাকে প্রলুব্ধ করে আগের সংসার থেকে আলাদা করেন, যা বাদীপক্ষের মতে মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির কারণ হয়েছে।
পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই তদন্ত করে। তদন্তে তামিমার আগের বিয়ের বৈধ বিচ্ছেদসংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক এবং উভয় পক্ষের আইনি ব্যাখ্যার ভিন্নতা উঠে আসে। এরপর ২০২২ সালে আদালত অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করেন।
বিচার চলাকালে একাধিক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। প্রায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালতে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। বাদীপক্ষ অভিযোগের পক্ষে শাস্তির দাবি জানালেও আসামিপক্ষ শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসছিল।
সবশেষে মামলার নথি, সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা করে আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, অভিযোগ প্রমাণে পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি পাওয়া যায়নি। ফলে নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা দুজনই খালাস পান।
এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রায় পাঁচ বছর ধরে আলোচিত মামলার আইনি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। শুরু থেকেই মামলাটি দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭