প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 14, 2026 ইং
বাংলাদেশের এইচএসসিকে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সঙ্গে তুলনা করা হয়: ববি হাজ্জাজ

বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি পর্যায়ের শিক্ষাকে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার সঙ্গে তুলনা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। গত ২০ বছরের অবহেলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এমন শোচনীয় অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
বক্তব্যের শুরুতে প্রস্তাবিত বাজেটকে জনগণবান্ধব ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ার বাজেট হিসেবে অভিহিত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখার অঙ্গীকার ছিল।
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং অর্থমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগের অংশ হিসেবে সামগ্রিক শিক্ষা খাতে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত দুই দশকের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে নৈরাজ্য চলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী পাস করতে পারে না।
তিনি বলেন, ‘এমনকি সিঙ্গাপুরে আমাদের দেশের উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি পর্যায়কে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে তুলনা করা হয়।’
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যক্রম, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো ও প্রশাসনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার শুরু হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রাথমিকের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের বিরোধিতাকারীদেরও সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধীদের কেউ কেউ এ বিষয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ও সৃজনশীল চিন্তার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ কারণেই সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বাজেটের অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের ওপর বিনিয়োগের পাশাপাশি সৃজনশীল অর্থনীতি এবং পুরোনো কারখানা পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আগে শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও এবার তা বাড়িয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। আগামী দিনে পর্যায়ক্রমে এ বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বিরোধী দলকে গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতের সংস্কার ও অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি না করার অনুরোধ করেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭