
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে আটকের ঘটনায় বর্তমান সরকারের কোনো কৃতিত্ব নেই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, এটি ইন্টারপোলের কৃতিত্ব।
রোববার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে ১১-দলীয় ঐক্যজোটের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “বেনজীরের আটক সরকারের কৃতিত্ব নয়, এটা ইন্টারপোলের কৃতিত্ব। তাঁর বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্টও বর্তমান সরকার জারি করেনি, আগের সরকার করেছে। তবে বেনজীরের আটক বাংলাদেশের একটি অর্জন। তিনি দুবাইয়ের কারাগারে থাকবেন, নাকি দেশে আনা হবে, তা সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।”
ভারতের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের একটি বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। তাঁরা আবারও ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
পুশ ইন প্রসঙ্গে সংসদে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, তাঁকে এ বিষয়ে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। বিষয়টি সংসদে উত্থাপন না করতে বিভিন্ন দিক থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “সংসদে কথা বলতে না দিলেও প্রয়োজনে জনতার সংসদে এসে কথা বলব।”
বিরোধী দলের নারী সদস্যদের পোশাক নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর একটি বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন জামায়াতের আমির।
তিনি বলেন, “সবকিছুর একটি সীমা থাকা দরকার। সংসদকে আর আমরা মমতাজের সংসদ বানাতে চাই না। এই সংসদ হোক দেশপ্রেমিক নেতৃবৃন্দের সংসদ। একজন সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে পর্দা সম্পর্কে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন। কমনসেন্স কোথায়?”
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে বিরোধী দল চরমপন্থা বা গরমপন্থা নয়, মধ্যমপন্থা অনুসরণ করবে। জনগণের রায় ব্যর্থ হলে টেকসই গণতন্ত্র বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “এ বিষয়ে সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে লড়াই চলবে। তবে সরকার দায়িত্বশীল আচরণ করলে দেশ ভালো থাকবে।”
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ভালো নির্বাচন হলেই ভালো শাসন নিশ্চিত হয় না। তাঁর অভিযোগ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকার জুলাই সনদ উপেক্ষা করেছে এবং গণভোটের রায় কার্যকর করেনি।
তিনি দাবি করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফল মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হতে পারত। এ কারণে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে তাঁরা ফলাফল মেনে নিয়েছেন।
মতবিনিময় সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জেলা আমির হাবিবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির সিলেট জেলা আহ্বায়ক জুনেদ আহমদ, মহানগর আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজল এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগরের সভাপতি এমরান আলমসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।