প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 17, 2026 ইং
বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে ছিনতাই ও পুলিশের ওপর হামলা, ‘এক্সেল বাবু’সহ গ্রেপ্তার ৬

রাজধানীর আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় এক বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ফরিদ আহমেদ বাবু ওরফে ‘এক্সেল বাবু’ এবং কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে পরিচিত আবু সাইদ রয়েছেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
অন্য গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাশেদ খন্দকার, মো. লিটন, মো. তৌসিফ ও মো. তরিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার রাজধানীর আদাবর, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে শেখেরটেক এলাকার একটি বিকাশের দোকানে ঢুকে সশস্ত্র ছিনতাইকারীরা এজেন্টকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে আদাবর থানা-পুলিশ সন্দেহভাজনদের আস্তানায় অভিযান চালালে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় বলে জানিয়েছে র্যাব। এতে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও উপপরিদর্শক তরুণ কুমার গুরুতর আহত হন।
ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র্যাব-২। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও একটি সামুরাই জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
এর আগে ঘটনাস্থল থেকে ছিনতাই ও হামলায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদাবর থানা-পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, চুরি ও অন্যান্য অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁদের কয়েকজন পরোয়ানাভুক্ত আসামি বলেও জানানো হয়েছে।
নয়মুল হাসান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আবু সাইদ নিজেকে কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি বলে স্বীকার করেছেন। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, আনোয়ার গ্রেপ্তার হওয়ার পর আবু সাইদ চক্রটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
র্যাব কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, এক্সেল বাবু কব্জিকাটা আনোয়ারের গুরু এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তাঁদের সহযোগিতায় ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা যায়নি।
নয়মুল হাসান বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় চক্রটির সব সদস্যকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭