প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 20, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 20, 2026 ইং
বেনাপোল বন্দরে আমদানি পণ্য পাচারের অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন

বেনাপোল বন্দরে স্টোরকিপার ও শ্রমিকদের একটি অংশের সহযোগিতায় নিয়মিত আমদানি পণ্য পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় সূত্র ও ব্যবসায়ীদের দাবি, অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বন্দর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্দর শ্রমিকদের মাধ্যমে পণ্য চুরির একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। প্রশ্ন উঠেছে, প্রায় ৩০০ নিরাপত্তাকর্মী, অর্ধশতাধিক সিসি ক্যামেরা এবং কাস্টমসের গোয়েন্দা নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটছে।
ঘটনার পর বন্দর কর্তৃপক্ষ শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে অভিযোগ উত্থাপন করে এবং পরে দুইজন শ্রমিককে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের আরও দাবি, বন্দর থেকে পণ্য পাচারের সঙ্গে কিছু অসাধু বন্দর, কাস্টমস, সিঅ্যান্ডএফ, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং শেডে অবস্থানরত কিছু এনজিও কর্মীও জড়িত থাকতে পারে। একটি চক্রের সহায়তায় শ্রমিকদের ব্যবহার করে এসব পণ্য বাইরে নেওয়া হয় এবং এর বিনিময়ে অর্থ লেনদেন হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই পণ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অনিয়মের কারণে অপরাধীরা উৎসাহিত হচ্ছে, ফলে বৈধ ব্যবসায়ীরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, পণ্য পাচারের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুই শ্রমিককে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বিভিন্ন কারণে আমদানি খাতে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা কম হয়েছে। এদিকে পণ্য পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে বন্দর, সিঅ্যান্ডএফ ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ৪৩ জনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭