প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 21, 2026 ইং
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পারমাণবিক আলোচনা, পৌঁছালেন জেডি ভ্যান্স

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং চলমান উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্য নিয়ে একটি ভঙ্গুর অন্তর্বর্তী চুক্তিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে সুইজারল্যান্ডে শুরু হওয়া আনুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নিতে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৬টার ঠিক আগে তিনি লুসার্নের অদূরে ইমেন বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেন। তার সঙ্গে স্ত্রী ঊষা ভ্যান্সও রয়েছেন বলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের কার্যালয় নিশ্চিত করেছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তির কারিগরি দিকগুলো চূড়ান্ত করতে দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা ৬০ দিনের সময়সীমার মধ্যে কাজ করছেন। তবে আলোচনার শুরু থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
লেবাননে ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে তীব্র সংঘাত এবং ইরানের সামরিক বাহিনীর হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
জেডি ভ্যান্সের গত শুক্রবারই সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে সংঘাত বৃদ্ধি ও ইরানি প্রতিনিধিদের সফর পরিকল্পনায় পরিবর্তনের কারণে তার যাত্রা বিলম্বিত হয়।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের দাবিকে অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, সমুদ্রপথ স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভ্যান্সও জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিপুল পরিমাণ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আলোচক দলের আগমনের খবর প্রচারের পরপরই ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন। তেহরানের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার আলোচনার কারিগরি অংশে অংশ নিচ্ছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির এবং কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও আলোচনায় যুক্ত হয়েছেন।
ভ্যান্স জানিয়েছেন, তিনি সুইজারল্যান্ডে এক থেকে দুই দিন অবস্থান করবেন এবং মূল আলোচনার দায়িত্ব উইটকফ ও কুশনারের ওপর থাকবে।
চুক্তি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি পূর্ববর্তী ইরান পারমাণবিক চুক্তির মতোই বিতর্কিত হতে পারে, যা নিয়ে আগে থেকেই রিপাবলিকান শিবিরে বিভাজন রয়েছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরান অবিলম্বে অবরুদ্ধ থাকা তেল বিক্রির সুযোগ এবং শত শত কোটি ডলারের সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানোর শর্ত রয়েছে।
এছাড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ৬০ দিন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে ফি বা শুল্ক ছাড়া চলাচল করতে পারবে। তবে ভবিষ্যতে ফি আরোপের বিষয়টি চুক্তিতে স্পষ্ট নয়।
এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করবে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে কারণ ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ এই চুক্তির অংশ নয় এবং সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: ফ্রান্স ২৪
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭