প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 21, 2026 ইং
প্রস্তাবিত বাজেট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী: রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। দলটি বাজেটটিকে অগণতান্ত্রিক ও বাস্তবতা-বিবর্জিত আখ্যা দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সংশোধনের দাবি জানিয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর তোপখানা রোডে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক বাজেট প্রতিক্রিয়া ও বিকল্প প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। দলের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া।
দিদার ভূঁইয়া বলেন, একটি রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রধান প্রত্যাশা ছিল এমন একটি অর্থনৈতিক রূপরেখা, যা প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাবে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেট সেই গণ-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে বাজেটটি জনপ্রতিনিধিত্বমূলক চরিত্র হারিয়েছে।
দিদার ভূঁইয়ার দাবি, প্রস্তাবিত বাজেট দেশীয় শিল্প ও কৃষির বিকাশ এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পরিবর্তে উন্নয়নবিরোধী ও অর্থপাচার-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাজেটের মূল ঘোষণা হওয়া উচিত ছিল—‘কর্মসংস্থানই উন্নয়ন’। বাজেটকে জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে দলের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বিকল্প প্রস্তাবনা ও সংশোধনীও তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো গেলে এক বছরের মধ্যে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এর ফলে আগামী অর্থবছরের বাজেটের সক্ষমতা বাড়ানো যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমলাতন্ত্রের ওপর জনগণের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বাজেট বাস্তবায়নে প্রত্যেক কর্মকর্তার কাজ মূল্যায়নের ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে পদোন্নতি বা পদাবনতির ব্যবস্থাও থাকা উচিত।
হাসনাত কাইয়ূমের অভিযোগ, মূল্যস্ফীতি, টাকার অবমূল্যায়ন এবং জনগণের জীবনমানের অবনতিকে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে বাজেটকে কর্মসংস্থান-বিমুখ ও দেশি-বিদেশি ঋণনির্ভর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অর্থনীতিকে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত বাজেট অবিলম্বে সংশোধন করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান, সহসভাপতি হাবিবুর রহমান রাজা, নির্বাহী কমিটির সদস্য মঞ্জুর কাদির ও শাহাবুদ্দিন কবিরাজসহ অন্য নেতারা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭