প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 21, 2026 ইং
ছয় সপ্তাহ পর তেল রপ্তানি শুরু ইরানের

প্রায় ছয় সপ্তাহের বিরতির পর দেশের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ থেকে আবারও অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শুরু করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের পর তেল লোডিং কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
বর্তমানে খারগ দ্বীপের সি আইল্যান্ড টার্মিনালে তিনটি বৃহৎ তেলবাহী জাহাজ বা ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) অবস্থান করছে। প্রতিটি জাহাজ প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করতে সক্ষম।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, তিনটি জাহাজের মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে জেটিতে ভিড়ে তেল লোড করছে। তৃতীয় জাহাজটি টার্মিনালের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত টার্মিনালের জেটিগুলো খালি ছিল। মে মাসের পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্রে বড় জাহাজের উপস্থিতিও ছিল সীমিত।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা কমেছে। এ সুযোগে ইরান দ্রুত তেল রপ্তানি কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত এবং বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এদিকে চাবাহার বন্দরের কাছেও কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজের মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক আন্তর্জাতিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার এড়িয়ে চলছিল। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। ইরানও পর্যায়ক্রমে তেলবাহী জাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, ‘স্ট্রিম’, ‘ইম্পালা’ ও ‘লরেন ২’ নামের তিনটি তেলবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে।
খারগ দ্বীপ ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
বিশ্লেষকদের ধারণা, উপসাগরের পূর্বাঞ্চলে অপেক্ষমাণ আরও অন্তত ২০টি জাহাজ পর্যায়ক্রমে তেল লোডিং কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারে। এতে আগামী দিনগুলোতে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আরও বাড়তে পারে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭