
চলমান বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। সংসদে মন্ত্রীদের উপস্থিতি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সোমবার স্পিকারের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনাকালে ঢাকা-১২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বিষয়টি উত্থাপন করেন।
তিনি বলেন, বাজেট অধিবেশনের অধিকাংশ সময় অনেক মন্ত্রীকে সংসদে দেখা যায় না। সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে বক্তব্য দিলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উপস্থিত না থাকায় তা যথাযথভাবে বিবেচিত হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন থেকে যায়।
স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেক মন্ত্রীর আসন খালি রয়েছে। এ বিষয়ে স্পিকারের সহযোগিতা চান তিনি।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের আরও বেশি উপস্থিত থাকা প্রয়োজন। অর্থমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত থাকায় সংসদ সদস্যদের ‘শোকর’ করতে বলেন তিনি।
স্পিকার বলেন, বাজেট অধিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্য মন্ত্রীরাও উপস্থিত থাকলে সংসদ বাধিত হবে।
এরপর চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, অনেক মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে সংসদে তাদের উপস্থিত থাকা উচিত।
তিনি বলেন, বাজেটসংক্রান্ত আলোচনায় বিভিন্ন খাতের বিষয় উঠে এলেও শেষ পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীকেই জবাব দিতে হয়। স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পুলিশ ও আইনসহ সব খাতের আর্থিক বিষয় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তিনি নিয়মিত সংসদে উপস্থিত থাকেন।
চিফ হুইপ আরও বলেন, দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী নিয়মিত সংসদে উপস্থিত থাকেন। অন্য মন্ত্রীদেরও সংসদ সদস্যদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং উত্থাপিত সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখা উচিত।
এ সময় টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতা ও উপনেতার অনুপস্থিতির বিষয়টিও দেখা উচিত।
এর জবাবে স্পিকার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা অনুপস্থিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধান মন্ত্রীদেরই দিতে হয়। তাই সংসদে মন্ত্রীদের উপস্থিতি প্রয়োজন। তবে সংসদের সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে সবার উপস্থিতি কাম্য।
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন।
সোমবার সংসদের বৈঠক বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় পাঁচ মিনিট পর কার্যক্রম শুরু হয়। বৈঠকের শুরুতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন না। পরে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি সংসদে যোগ দেন।
এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও উপনেতা ডা. আবদুল্লাহ মো. তাহের অনুপস্থিত ছিলেন। তবে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।