প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 23, 2026 ইং
বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কা

ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পাউবো সূত্র জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন দিন এ অঞ্চলে ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকতে পারে। এতে লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারি বৃষ্টির পাশাপাশি ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে। তীরবর্তী এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে।
সাবেক স্কুলশিক্ষক মহিরুদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না, অথচ বর্ষা মৌসুমে গজলডোবা ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়ায় বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
উত্তর গড্ডিমারী গ্রামের বাসিন্দা মোন্তাজ মিয়া বলেন, তিস্তা তীরবর্তী এলাকার রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের লালমনিরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, ভারত থেকে আসা উজানের ঢলে মঙ্গলবার ভোর থেকে তিস্তার পানি আরও বেড়েছে। এতে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং পানি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিস্তা ব্যারাজের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার বেলা ৩টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতির পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ও সড়কগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭