প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 23, 2026 ইং
বেনাপোল কাস্টমস থেকে পণ্য পাচারের অভিযোগে কর্মকর্তাসহ আটক ৩

যশোরের বেনাপোল কাস্টমস গোডাউন থেকে জব্দ করা ভারতীয় পণ্য পাচারের অভিযোগে কাস্টমসের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় পাচারের কাজে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যান এবং প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে বেনাপোল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে সোমবার বিকেলে বেনাপোল সদর বিজিবি ক্যাম্প থেকে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, কাভার্ড ভ্যানের চালক মহসিন আলী এবং সহকারী জাহিদ হাসান।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জব্দ করা চালানে উচ্চ শুল্কযুক্ত ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রসাধনী এবং আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় ওষুধ পাওয়া গেছে। তবে উদ্ধার করা পণ্যের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও সিজারমূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি কাভার্ড ভ্যানসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা মালামালের হিসাব ও সিজারমূল্য নির্ধারণ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর বেনাপোল কাস্টমস হাউসের দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও তিন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দরে শুল্ক ফাঁকি, পণ্য চুরি এবং অনিয়মের অধিকাংশ ঘটনা গভীর রাতে ঘটে। বিভিন্ন ঘটনার পর তদন্ত ও নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও একই ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসছে।
বেনাপোলের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দীন বলেন, কাস্টমসে বড় ধরনের অনিয়ম বা শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটলে পরে প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যায়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিজিবির অভিযানে এসব ঘটনা প্রথমে শনাক্ত হয় বলে দাবি করেন তিনি।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী রাজ্জাক হোসেন বলেন, এর আগেও কাস্টমসে পণ্য নিখোঁজ, শুল্ক ফাঁকি ও মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে অনিয়ম বন্ধ হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি বেনাপোল বন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে কাস্টমসের জব্দ করা প্রায় ছয় কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ছাড়া ৪১ নম্বর শেড থেকে প্রায় ২৫ টন আমদানি করা পণ্য নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে তদন্ত চলছে। এর আগে ২৬ নম্বর শেড থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ঘোষণাবহির্ভূত ভারতীয় শাড়ি ও প্রসাধনী জব্দ করা হয়েছিল।
ধারাবাহিক এসব ঘটনায় বেনাপোল বন্দর ও কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, শুধু সাময়িক বরখাস্ত ও তদন্তের আশ্বাস নয়, অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭