প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 23, 2026 ইং
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নতুন ধাপে, এখনই উঠছে না সব নিষেধাজ্ঞা

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান কূটনৈতিক সমঝোতা প্রক্রিয়া নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে। তবে এ মুহূর্তে ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।
সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।
ইসহাক দারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ বা ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’র ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে আলোচনায় বসেছে। পরবর্তী ধাপের আলোচনা মূলত ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবাননের পরিস্থিতি—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে।
বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তিনটি কারিগরি দল গঠন করা হয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সমঝোতা প্রক্রিয়াকে স্থায়ী রূপ দিতে পক্ষগুলোর জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। তবে উভয় পক্ষ সম্মত হলে সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
ইসহাক দারের দাবি, দীর্ঘ ৪৭ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি আলোচনায় বসতে সক্ষম হয়েছে। পাকিস্তানের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এ আলোচনা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, কোনো গোপন সমঝোতার মাধ্যমে নয়, বরং লিখিত ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’র ভিত্তিতেই পুরো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক মজুত কমানোসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে অগ্রগতি আসতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্কের সমন্বয়ে ‘আর-৪ ফোরাম’ নামে একটি নতুন আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের কথাও জানান ইসহাক দার।
তার মতে, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক জোট নয়; বরং প্রায় ৫০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী একটি যৌথ মঞ্চ। প্ল্যাটফর্মটি লোহিত সাগর, ভূমধ্যসাগর ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
ইসহাক দার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই এই সমঝোতা স্মারক গ্রহণ করেছে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত সংকট নিরসনে একটি পরিকল্পিত কাঠামো হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মনে করেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭