প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 23, 2026 ইং
আজ আজ ২৩ জুন,ঐতিহাসিক পলাশী দিবস

আজ ২৩ জুন , ঐতিহাসিক পলাশী দিবস। ১৭৫৭ সালের এই দিনে পলাশীর আম্রকাননে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনীর কাছে পরাজিত হন বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলা। এ পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলায় ব্রিটিশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হয়।
বাংলার ইতিহাসে দিনটি ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা ও স্বাধীনতা হারানোর প্রতীক হিসেবে স্মরণ করা হয়। পলাশীর প্রান্তরে রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনীর মুখোমুখি হয়েছিল নবাবের সেনাবাহিনী। তবে নবাবের প্রধান সেনাপতি মীর জাফরসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিষ্ক্রিয়তা ও ষড়যন্ত্রের কারণে যুদ্ধের ফল নবাবের বিপক্ষে যায় বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।
যুদ্ধে নবাবের বিশ্বস্ত সেনাপতি মীর মদন, দেওয়ান মোহনলাল ও অন্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশ কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। ফলে সংখ্যায় অনেক কম হওয়া সত্ত্বেও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী জয়লাভ করে।
নবাব সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৬ সালের এপ্রিলে সিংহাসনে আরোহণ করেন। নবাব আলিবর্দী খাঁ মৃত্যুর আগে দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলাকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করে যান। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই নবাবকে অভ্যন্তরীণ বিরোধ, দরবারি ষড়যন্ত্র এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মুখোমুখি হতে হয়।
ইতিহাসবিদদের বর্ণনা অনুযায়ী, মীর জাফর, জগৎ শেঠ, রায় দুর্লভ, উমিচাঁদ, ইয়ার লতিফ ও ঘসেটি বেগমসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিও এ বিরোধকে নিজেদের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থে কাজে লাগায়।
১৭৫৭ সালের ১৭ জুন রবার্ট ক্লাইভ কাটোয়ায় অবস্থান নেন। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ২২ জুন পলাশীতে পৌঁছে শিবির স্থাপন করেন। পরদিন ২৩ জুন সকাল ৮টার দিকে যুদ্ধ শুরু হয়। নবাবের বাহিনীতে বিপুলসংখ্যক সৈন্য থাকলেও মীর জাফর ও তার অনুসারীরা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেননি।
মীর মদন ও মোহনলালের নেতৃত্বে নবাবের অনুগত সৈন্যরা প্রতিরোধ চালিয়ে যান। একপর্যায়ে মীর মদন নিহত হলে নবাবের বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত নবাব পরাজিত হন এবং পরবর্তী সময়ে তাকে হত্যা করা হয়।
পলাশীর যুদ্ধের পর মীর জাফরকে বাংলার নবাব করা হলেও প্রকৃত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব চলে যায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে। এর মধ্য দিয়ে বাংলা এবং পরে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তি শক্তিশালী হয়।
পলাশীর পরাজয় তাই শুধু একটি যুদ্ধের ফল নয়; এটি বাংলার রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত। প্রতিবছর ২৩ জুন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা ও স্মরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি পালন করে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭