প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 23, 2026 ইং
প্রবাসীদের বিনিয়োগ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন উদ্যোগ

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ধরনের ব্যাংক হিসাব চালুর সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব’ নামের এ হিসাবের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের অর্থ ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে জমা রাখতে পারবেন। জমা অর্থ দেশে বিনিয়োগ, ঋণের জামানত হিসেবে ব্যবহার এবং প্রয়োজনে বিদেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগও থাকবে।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, রেমিট্যান্সের অর্থকে আরও কার্যকরভাবে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় যুক্ত করা, প্রবাসীদের বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে এ হিসাব খুলতে পারবেন। হিসাবটি সঞ্চয়ী, চলতি বা মেয়াদি আমানত-যেকোনো ধরনের হতে পারবে।
রেমিট্যান্সের পাশাপাশি অন্য অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, সুদ বা মুনাফা, অনুমোদিত বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয়, শেয়ারে আবেদনের বিপরীতে ফেরত পাওয়া অর্থ এবং বৈদেশিক মুদ্রাসংশ্লিষ্ট অন্যান্য অনুমোদিত অর্থও এ হিসাবে জমা করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, হিসাবে জমা রাখা মূল অর্থ এবং এর বিপরীতে অর্জিত সুদ বা মুনাফা সম্পূর্ণভাবে বিদেশে ফেরত নেওয়া যাবে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। স্থানীয় পরিশোধ, অন্য অনিবাসী হিসাব বা বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে অর্থ স্থানান্তর এবং দেশে প্রত্যক্ষ বা পোর্টফোলিও বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে।
সার্কুলার অনুযায়ী, এ হিসাবে থাকা অর্থ ব্যবহার করে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট বিশেষায়িত অঞ্চলের টাইপ-এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে টাকায় ঋণ দিতে পারবে। তবে এই ঋণ শুধু বেতন-ভাতা, মজুরি ও ইউটিলিটি বিলের মতো চলতি ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা যাবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয় থেকে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
এ ছাড়া এ হিসাবে জমা অর্থ জামানত রেখে দেশের ডমেস্টিক ব্যাংকিং ইউনিট থেকে প্রবাসী বা তাদের মনোনীত ব্যক্তি ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের অর্থ ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা গেলেও কৃষি, প্ল্যান্টেশন ও আবাসন খাতে বিনিয়োগে ব্যবহার করা যাবে না।
তবে অ-প্রত্যাবাসনযোগ্য বিনিয়োগ এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আবাসিক সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে এ অর্থ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন হিসাব চালুর ফলে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ আরও বেশি ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আসবে। একই সঙ্গে দেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে এবং অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হবে। বিশেষায়িত অঞ্চলের রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এ ব্যবস্থার মাধ্যমে টাকার তারল্য সহায়তা পেতে পারে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭