প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 24, 2026 ইং
কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, প্লাবিত হচ্ছে চর ও নিম্নাঞ্চল

উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ছে। তিস্তার পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
বুধবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদ বিপৎসীমার ১ দশমিক ২১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৬ দশমিক ০৫ মিটার।
তালুক সিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলার পানির উচ্চতা ছিল ২৯ দশমিক ৯৪ মিটার। সেখানে বিপৎসীমা ৩০ দশমিক ৮৭ মিটার।
পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদ বিপৎসীমার ০ দশমিক ৮৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৬০ মিটার।
নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ৪৯ মিটার নিচে ছিল। চিলমারী পয়েন্টে এ নদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ২১ দশমিক ৯৭ মিটার, যা বিপৎসীমার চেয়ে ১ দশমিক ২৮ মিটার নিচে।
তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ দশমিক ৫ মিটার। এটি বিপৎসীমার চেয়ে ০ দশমিক ২৬ মিটার নিচে।
পানি বাড়তে থাকায় অনেক এলাকায় চীনাবাদাম, পাট, মরিচ ও ভুট্টার ক্ষেত তলিয়ে গেছে। নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে বন্যা ও ভাঙনের আতঙ্কও বাড়ছে। আগামী কয়েক দিনে জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ও অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। তবে এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।”
তিনি বলেন, “উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭