
দেশের টেকসই উন্নয়ন ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বিজ্ঞানীদের বাজেটনির্ভর না হয়ে মৌলিক, উদ্ভাবনী ও মানসম্পন্ন গবেষণায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
বুধবার ময়মনসিংহে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, খাদ্যের পুষ্টিগুণ, নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা পরিচালনা করতে হবে। দেশের উন্নয়নে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।
গবেষণার পেটেন্ট গ্রহণ এবং কৃষিকে যুগোপযোগী করতে উৎপাদনশীল প্রকল্প নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষি এগিয়ে গেলেই দেশ এগিয়ে যাবে। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে দেশের অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, বিশ্বে খাদ্য উৎপাদনের ঘাটতি নেই, তবে নিরাপদ খাদ্যের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে সরকার নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যের কারণে মৎস্য ও কৃষি খাতের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মাছের খাদ্যের কাঁচামাল নিরাপদভাবে উৎপাদন করা জরুরি।
স্বাদুপানির মাছের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে নিরাপদ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধির পর রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কৃষি খাতের মতো মৎস্যচাষেও ভর্তুকিমূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মৎস্যচাষিদের এ দাবি যৌক্তিক। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে মন্ত্রী বিএফআরআইয়ের বিভিন্ন হ্যাচারি ও মাছ চাষ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি সুবর্ণ রুই, মেকং পাঙ্গাশ, মহাশোল, ছোট মহাশোল, স্বাদুপানির মুক্তা, খোকসা, ঢেলা, দেশি সরপুঁটি, বাইন, ভাগনা, দেশি তিতপুঁটি, ঘাউড়া, মনোসেক্স তেলাপিয়া, গুঁড়া চিংড়ি, গলদা চিংড়ি ও কুচিয়া মাছের হ্যাচারি ঘুরে দেখেন।
এ ছাড়া খাঁচায় শিং, গুলসা, পাবদা ও মাগুর মাছের চাষ পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, ময়মনসিংহ বিভাগে মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, ইনস্টিটিউটের পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ড. মো. লতিফুল ইসলাম, পরিচালক (গবেষণা ও পরিকল্পনা) ড. মো. আমিরুল ইসলাম এবং মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।