প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 24, 2026 ইং
কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে সংসদে বাগবিতণ্ডা

জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সময় পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকারকে একাধিকবার হস্তক্ষেপ করতে হয়।
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনের আলোচনায় এ ঘটনা ঘটে।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ বিরোধী দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে গিয়ে কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করেন।
তিনি বলেন, “যারা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অস্বীকার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।”
এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন অভিযোগ করেন, কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে দেওয়া বক্তব্যটি আয়াতের রাজনৈতিক অপব্যাখ্যা এবং ঠাট্টা-বিদ্রুপের শামিল। তিনি বক্তব্যটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
জবাবে স্পিকার বলেন, “বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা হবে। কোনো ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়ে থাকলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ একটি মুসলিমপ্রধান দেশ। কোরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।”
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য অসৎ উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেননি। তিনি মাদ্রাসাশিক্ষিত এবং ধর্মীয় বিষয়টি ইতিবাচক অর্থে তুলে ধরেছেন। বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট আড়াল করে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তিনি আলেম বা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাইয়ের দাবি জানান।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান স্পিকার। তিনি বলেন, সংসদে অনেক আলেম ও মাদ্রাসাশিক্ষিত সদস্য রয়েছেন। নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি না করে বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
পরে সরকারি দলের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেন, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ব্যঙ্গ বা পরিহাসের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেননি। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সঠিক আমলের গুরুত্ব তুলে ধরাই তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল।
দফায় দফায় বক্তব্য ও স্পিকারের হস্তক্ষেপের পর সংসদের পরিবেশ স্বাভাবিক হয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭