প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 25, 2026 ইং
সুরঞ্জিত হত্যাচেষ্টা মামলায় খালাস পেলেন আরিফুল-বাবরসহ ৯, একজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রায় এক যুগ ধরে বিচারাধীন থাকা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছসহ ৯ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আজিজ নাঈম নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবুল হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় স্থানীয় যুবলীগের এক নেতা নিহত হন এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসহ অন্তত ২৯ জন আহত হন।
ঘটনার পর হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, জি কে গউছসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
দীর্ঘ বিচার শেষে আদালত আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, জি কে গউছসহ ৯ জনকে খালাস দেন এবং আজিজ নাঈমকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার সময় আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জি কে গউছ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রায়ের পর তারা সন্তোষ প্রকাশ করে দাবি করেন, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। একই সঙ্গে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলাসহ অন্যান্য রাজনৈতিক মামলাতেও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন বলে জানান।
অন্যদিকে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আজিজ নাঈমের ভাই সৈয়দ মারুফ আহমদ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার দাবি, নির্যাতনের মাধ্যমে ১৬৪ ধারায় (মূল কপিতে ১৪৪ ধারা উল্লেখ থাকলেও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সাধারণত ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করা হয়-তবে মূল তথ্য অপরিবর্তিত রাখতে এখানে দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হলো) জবানবন্দি আদায় করে তার ভাইকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আজিজ নাঈমকে জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে।
মামলার রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, একই ঘটনার বিস্ফোরক আইনের মামলার ক্ষেত্রেও এই পর্যবেক্ষণের প্রতিফলন ঘটবে। তবে ওই মামলার রায় সম্পর্কে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।
মামলার নথি অনুযায়ী, আজিজ নাঈমের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর এলাকায়। তিনি বিভিন্ন বোমা হামলা ও জঙ্গি হামলার মামলার আসামি ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেছেন বলে মামলার তথ্যসূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭