প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 27, 2026 ইং
বাংলাদেশের দুই প্রকল্পে ১১০ কোটি ডলার জরুরি ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের দুটি প্রকল্পের জন্য ১১০ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি ঋণ সহায়তা অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। এ অর্থ বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারে মূল্য ও সরবরাহের অস্থিরতা মোকাবিলা, খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং জরুরি কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় করা হবে।
শুক্রবার এ অর্থায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যাঁ পেসম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এতে ক্ষুদ্র কৃষক এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, এই সহায়তা ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা, মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থান রক্ষা এবং জরুরি জনসেবা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় ২০২৬ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমন মৌসুম এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানি করা হবে।
প্রকল্পটির আওতায় ছয় লাখ মেট্রিক টন অত্যাবশ্যকীয় সার আমদানিতে অর্থায়ন করা হবে। এর অর্ধেক হবে ইউরিয়া। এতে দেশের প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র কৃষকদের ধান উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার সুলেমান কুলিবালি বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আমন ও বোরো মৌসুম থেকে আসে। দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সারের ঘাটতি খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারত।
অন্যদিকে ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় জরুরি তহবিল দ্রুত ছাড় করা হবে। এর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা ও জীবিকা পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে ব্যয় হবে।
তহবিলের বাকি অংশ খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের মতো জরুরি সেবা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি খাতে ব্যয় করা হবে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অর্থ ছাড়ের কথা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার লেসলি জেন ইউ কর্ডেরো বলেন, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাস করে জরুরি তহবিলটি গঠন করা হয়েছে। এতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে মানুষ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে দ্রুত সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭