প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 27, 2026 ইং
নতুন ভারতীয় হাইকমিশনারকে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা ইতিবাচক অগ্রগতি: তথ্য উপদেষ্টা

ভারতের নতুন হাইকমিশনারকে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টিকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, এতে বাংলাদেশের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি হবে বলে তিনি মনে করেন না। বরং এটি দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দেয়।
শনিবার (২৭ জুন) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (বিসিটিআই) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “আমি কোনো চাপের বিষয় দেখি না। বরং এটিকে ইতিবাচকভাবেই দেখি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ভারত আবার পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পৃক্ত হতে চায়। নতুন হাইকমিশনারকে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া সেই উদ্যোগেরই বহিঃপ্রকাশ।”
তিনি বলেন, নতুন হাইকমিশনার ভারতের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে দুই দেশের অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয়ে ভারত আরও আন্তরিক ভূমিকা নেবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আত্মমর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ। এ নীতির কোনো পরিবর্তন হবে না।
আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সংযোগ বৃদ্ধি সাধারণভাবে ইতিবাচক। চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য করিডর বা সংযোগ প্রকল্প নিয়ে এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে সমীক্ষা এবং অর্থনৈতিক লাভজনকতা যাচাইয়ের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ইউরোপের দেশগুলো পারস্পরিক সংযোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন করেছে। বাংলাদেশও জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত রেখে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটির অংশ হলে তা দেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
অতীতে বিবিআইএনসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংযোগ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো কানেক্টিভিটি প্রকল্পে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এর আগে ডা. জাহেদ উর রহমান বিসিটিআই আয়োজিত ষষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ কোর্স এবং প্রথম টেলিভিশন অডিশন ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট নির্মাণ কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন। দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিসিটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর স্পিচরাইটার মাহফুজুর রহমান, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭