প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 28, 2026 ইং
রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি:সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলির ঘটনায় সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুজন হলেন খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান।
একই মামলায় সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন এবং সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার বেলা সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে চারজন পলাতক। তারা হলেন হাবিবুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম, মশিউর রহমান ও তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে রোববার সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, জীবন বাঁচাতে নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা অবস্থায় আমির হোসেনকে গুলি করা হয়েছিল। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
গত ১৫ জুন মামলায় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দফার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। চঞ্চল চন্দ্র সরকারের আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছিলেন। যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ জুন দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন চঞ্চল চন্দ্র সরকার। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি প্রথম দফায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন তিনি।
গত ৪ মার্চ মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও প্রসিকিউশন নতুন ডিজিটাল প্রমাণ জমা দেওয়ার আবেদন করে। পরে প্রথম সাক্ষী আমির হোসেনকে আবারও সাক্ষ্য দিতে হয়।
গত বছরের ২৩ অক্টোবর সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দির মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছিল।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭