
অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসা বাবদ প্রায় ৮২ লাখ টাকা সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।
রোববার সকাল ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া ‘চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে মিডিয়া ফ্রেমিং ও আমার ব্যাখ্যা’ শীর্ষক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
এর আগে শনিবার ‘ধর্ম উপদেষ্টা খালিদ একাই নিয়েছেন ৮২ লাখ’ শিরোনামে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। খালিদ হোসেনের দাবি, কয়েকটি গণমাধ্যমে বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি ও সন্দেহ তৈরি করতে পারে।
তিনি জানান, ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’ অনুযায়ী মন্ত্রী ও মন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তিদের দেশ-বিদেশে চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ, সরকারপ্রধানের অনুমোদন এবং চিকিৎসা শেষে বিল-ভাউচার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়ার নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
খালিদ হোসেন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। ২০১৫ সালে তার হৃদ্যন্ত্রে স্টেন্ট বসানো হয় এবং এখন পর্যন্ত পাঁচবার এনজিওগ্রাম করা হয়েছে।
উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর দেশে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার হৃদ্স্পন্দন অনিয়মিত ধরা পড়ে বলে জানান তিনি। পরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে ‘ক্যাথেটার অ্যাবলেশন’ অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেয়।
তার দাবি, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি দেশে না থাকায় তাকে আবুধাবি বা থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসার সুপারিশ করা হয়। পরে তিনি বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে যান।
প্রথম দফায় পরীক্ষা, এনজিওগ্রাম ও চিকিৎসা বাবদ প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয় বলে জানান তিনি। তখন হৃদ্যন্ত্রের দেয়ালে রক্ত জমাট থাকায় তাৎক্ষণিক অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি দেশে ফিরে আসেন।
পরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকদের পরামর্শে জানুয়ারি মাসে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এ সময় হাসপাতাল ও চিকিৎসা বাবদ প্রায় ৬৫ লাখ টাকা বিল আসে বলে উল্লেখ করেন তিনি। থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুরোধে বিলে কিছু ছাড় পাওয়া যায় বলেও জানান।
খালিদ হোসেন দাবি করেন, সরকার শুধু হাসপাতাল, অস্ত্রোপচার ও ওষুধের ব্যয় বহন করেছে। তার সহযাত্রীর খরচ, হোটেল ভাড়া, খাবার ও যাতায়াত ব্যয় তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরিশোধ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা ব্যয়ের প্রতিটি রসিদ, বিল ও ভাউচার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোর কপি তার কাছেও সংরক্ষিত রয়েছে।
সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা অপব্যবহার করেননি। আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক চিকিৎসা ব্যয়কে সন্দেহজনকভাবে উপস্থাপন করার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট সংবাদ ও ‘মিডিয়া ফ্রেমিং’-এর নিন্দা জানান আ ফ ম খালিদ হোসেন।