প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 29, 2026 ইং
আগামীকাল পাস হচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আগামীকাল জাতীয় সংসদে পাস করা হবে। নতুন বাজেটে কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত কয়েকটি প্রস্তাবে পরিবর্তন আনার আলোচনা চলছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৯ জুন) সংশোধিত অর্থ বিল ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস করা হচ্ছে। এরপর মঙ্গলবার বাজেট পাস হলে তা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
চূড়ান্ত বাজেটে সঞ্চয়পত্রের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব থেকে সরকার সরে আসতে পারে। পাশাপাশি ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর আপত্তি, অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত কয়েকটি কর ও ভ্যাটব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করছে সরকার। বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে খুচরা ব্যবসায় প্যাকেজভিত্তিক ভ্যাট, ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা, ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা, আয়কর স্ল্যাব এবং জমির মূলধনী মুনাফা কর।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সংসদে বাজেট পাস এবং অর্থ বিলের চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় এসব প্রস্তাবে সংশোধন আনা হতে পারে।
প্রস্তাবিত বাজেটে বছরে ৫০ লাখ টাকার কম বিক্রয় বা টার্নওভার রয়েছে—এমন খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্ট ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছিল। ব্যবসার অবস্থান ও ধরন অনুযায়ী মাসে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভ্যাট নির্ধারণের পরিকল্পনা ছিল।
তবে বাস্তবায়নের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানির আশঙ্কা এবং পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় সরকার আপাতত এ প্রস্তাব থেকে সরে আসতে পারে।
ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দেশে অনেক মানুষের করযোগ্য আয় না থাকলেও ব্যাংকিং সেবার প্রয়োজন রয়েছে। ফলে টিআইএন বাধ্যতামূলক হলে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ তৈরি হতে পারে।
এদিকে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বর্তমান ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার সম্ভাবনা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এটি কার্যকর হলে ২০২৭-২৮ অর্থবছরেও বহাল থাকতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
করমুক্ত আয়সীমার পাশাপাশি আয়করের বিভিন্ন স্তর বা স্ল্যাবেও পরিবর্তনের আলোচনা চলছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের করদাতাদের ওপর চাপ কমাতে কিছু সমন্বয় আনা হতে পারে।
জমি উন্নয়ন প্রকল্পে ভূমির মালিকদের জন্য প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ মূলধনী মুনাফা করও সংশোধনের সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ী ও আবাসন খাতের প্রতিনিধিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ হার কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, প্রস্তুতি ছাড়া নতুন কর ও ভ্যাট ব্যবস্থা চালু হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
বিতর্কিত কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে সরকারের নমনীয় অবস্থানে ব্যবসায়ী ও করদাতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে অর্থ বিলের অনুমোদন এবং বাজেট পাসের আগে সরকারের শেষ মুহূর্তের পর্যালোচনার ওপর।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭