প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 30, 2026 ইং
নবম পে-স্কেল: ১ জুলাই থেকে মূল বেতন কার্যকরের প্রস্তুতি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন হারে ভাতা কার্যকর হতে পারে পরবর্তী অর্থবছর থেকে।
প্রায় ১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটি পে কমিশনের বিভিন্ন সুপারিশ পর্যালোচনা শেষ করেছে। বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গঠিত পৃথক কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।
রোডম্যাপটি শিগগিরই অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর কথা রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে নতুন পে-স্কেল সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে একাধিক বিকল্প আলোচনা হলেও দুই ধাপে কার্যকরের পরিকল্পনাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আইবিএএস++ ব্যবস্থায় জটিলতা এড়াতে মূল বেতন একবারে কার্যকর করা সুবিধাজনক হবে। তবে প্রশাসনিক সুবিধা বিবেচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন গড়ে প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন প্রায় ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় নতুন পে-স্কেল চালুর বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ অর্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্তদের জন্য ব্যয় করার কথা রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা বাবদ বছরে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। নবম পে-স্কেল কার্যকর হলে এ ব্যয় আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭