
ক্যালেন্ডারের পাতায় জুলাই মাস শেষ হয় ৩১ দিনে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই থেমেছিল ৫ আগস্টে। আন্দোলনকারীদের ভাষায় দিনটি ছিল ‘৩৬ জুলাই’-এক দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল সময়ের শেষ দিন।
আবার ফিরে এসেছে সেই জুলাই
আজ ১ জুলাই। দুই বছর আগে ২০২৪ সালের এই দিনে সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের নতুন পর্ব শুরু হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মিছিল, সমাবেশ ও পদযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন পরবর্তী ৩৬ দিনে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান।
দুই বছর পর সেই আন্দোলনকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে স্মৃতি, শোক, দ্রোহ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের নানা আয়োজন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
কোথাও শহীদদের স্মরণে মোমবাতি জ্বলবে, কোথাও হবে পদযাত্রা ও গণসংযোগ। আয়োজন করা হবে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও যুব কনভেনশন। জুলাইয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে প্রকাশ করা হবে স্মরণিকা; দেয়ালজুড়ে আঁকা হবে গ্রাফিতি।
যে আন্দোলনের শিকড় ২০১৮ সালে
২০২৪ সালের জুলাইয়ের অভ্যুত্থান হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। এর পটভূমি বুঝতে ফিরে যেতে হয় ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে।
সরকারি চাকরিতে প্রচলিত কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ওই বছরের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
দীর্ঘ আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে তৎকালীন সরকার।
প্রায় ছয় বছর পর ২০২৪ সালের ৫ জুন সেই পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ মোট ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ আদালতের সিদ্ধান্তকে মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করেন। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়।
সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও শিক্ষার্থীরা শুধু বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে রাজি হননি। তারা কোটাব্যবস্থার একটি স্থায়ী ও যৌক্তিক সমাধান এবং নতুন নির্বাহী আদেশের দাবি জানান।
জুনেই শোনা গিয়েছিল আন্দোলনের পদধ্বনি
২০২৪ সালের ৬ জুন সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা পুনর্বহালের রায় বাতিলের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়। একই দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেন।
৯ জুন আবারও বিক্ষোভে নামেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দাবি পূরণের জন্য সরকারকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।
চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও একই দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন।
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। বিক্ষোভ শেষে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে স্মারকলিপি দিতে সুপ্রিম কোর্টে যান।
অন্যদিকে, কোটা-সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ৪ জুলাই দিন নির্ধারণ করা হয়।
কিন্তু তত দিনে ক্যাম্পাসে জমে ওঠা অসন্তোষ নতুন আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে ফেলেছিল।
১ জুলাই: শুরু এক দীর্ঘ যাত্রার
২০২৪ সালের ১ জুলাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হয়েছিলেন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী। কারও হাতে প্ল্যাকার্ড, কারও কণ্ঠে কোটা সংস্কারের স্লোগান।
সেখান থেকে মিছিল এগিয়ে যায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র-টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের দিকে। সমাবেশে ঘোষণা আসে নতুন কর্মসূচির। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামের প্ল্যাটফর্ম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করলে আন্দোলন দ্রুত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে।
সমাবেশ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালসহ কয়েকটি দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা।
২ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে পদযাত্রা এবং ৩ ও ৪ জুলাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত সরকারি কলেজ ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভের ঘোষণা দেওয়া হয়।
দাবি পূরণের জন্য সরকারকে ৪ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন আন্দোলনকারীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ৪ জুলাইয়ের মধ্যে আইনিভাবে তাদের দাবির চূড়ান্ত সুরাহা করতে হবে।
সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয়’ স্কিমের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবির সঙ্গেও একাত্মতা জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের গ্রন্থাগার খোলা রাখা এবং শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।
একসঙ্গে জেগে ওঠে ক্যাম্পাসগুলো
১ জুলাইয়ের আন্দোলন শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। একই দিনে দেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালসহ চার দফা দাবিতে সমাবেশ ও মিছিল হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে সমাবেশ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশ শেষে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে প্রধান ফটকসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গিয়ে শেষ হয়। বেলা ১১টা ৫৭ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৭ মিনিট পর্যন্ত ১০ মিনিটের প্রতীকী অবরোধ পালন করেন তারা।
দাবি পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই দিন দ্বিতীয় দিনের মতো মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে কর্মসূচি চলে। মানববন্ধন শেষে স্লোগানে স্লোগানে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন আন্দোলনকারীরা।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও একই দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের পাশাপাশি কোটাব্যবস্থা সংস্কারে কমিশন গঠনের বিষয়টি ছিল। কমিশনের মাধ্যমে সরকারি চাকরির সব গ্রেড থেকে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিয়ে যৌক্তিক ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তারা।
‘বাংলা ব্লকেড’ থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’
১ জুলাই শুরু হওয়া কর্মসূচি কয়েক দিনের মধ্যেই আরও বিস্তৃত হয়ে ওঠে। ৭ জুলাই ঘোষণা করা হয় ‘বাংলা ব্লকেড’। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
প্রথম দিকে আন্দোলনের কর্মসূচি ছিল মূলত শান্তিপূর্ণ। মিছিল, পদযাত্রা, সমাবেশ, অবস্থান এবং প্রতীকী অবরোধের মাধ্যমে দাবি তুলে ধরা হচ্ছিল।
তবে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ১৫ জুলাই থেকে বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
১৬ জুলাই রংপুরে আন্দোলনের সময় আবু সাঈদ নিহত হন। একই দিনে চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরামের মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় আসে। এসব ঘটনার পর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও কর্মসূচিতে যুক্ত হন। তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কর্মসূচি দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা বলপ্রয়োগ করেন। সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা বাড়তে থাকায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
১৮ জুলাই ঘোষণা করা হয় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’। সড়কে সড়কে সংঘর্ষ, অবরোধ এবং বিক্ষোভের খবর আসতে থাকে। আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও ওঠে।
গ্রেপ্তার, মুক্তি ও ‘মার্চ ফর জাস্টিস’
২৬ জুলাই আন্দোলনের তিন সমন্বয়ককে আটক করা হয়। পরে আরও কয়েকজন সমন্বয়ককে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
৩১ জুলাই পালিত হয় ‘মার্চ ফর জাস্টিস’। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইনজীবী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ন্যায়বিচারের দাবিতে কর্মসূচিতে অংশ নেন।
১ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তি পান। একই দিনে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে তৎকালীন সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে।
তত দিনে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবি ছাপিয়ে সামনে চলে আসে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির বিচার, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি এবং সরকারের পদত্যাগের দাবি।
এক দফা থেকে ‘মার্চ টু ঢাকা’
৩ আগস্ট আন্দোলনের নেতারা এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। কোটা সংস্কারের আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়।
প্রথমে ৬ আগস্ট ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হলেও পরে তা এক দিন এগিয়ে ৫ আগস্ট করা হয়।
সেদিন রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে লাখো মানুষ জড়ো হন। সংঘর্ষ ও বাধার মধ্যেও ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে যোগ দেন শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিকেলে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান শেখ হাসিনার পদত্যাগের কথা জানান। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা শপথ নেন।
জুলাই এখন স্মৃতি ও অঙ্গীকারের নাম
২০২৪ সালের ১ জুলাই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে যে মিছিল শুরু হয়েছিল, তখন কেউ হয়তো জানতেন না-সেটিই একসময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেবে।
একটি সরকারি পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর যুক্ত হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সংঘর্ষ, প্রাণহানি, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের অভিযোগের মধ্যে আন্দোলন পরিণত হয় গণঅভ্যুত্থানে।
ক্যালেন্ডারে ৩১ জুলাই পার হয়ে এসেছিল আগস্ট। কিন্তু আন্দোলনকারীদের কাছে সেই জুলাই শেষ হয়েছিল ৫ আগস্টে -‘৩৬ জুলাই’-এ।
দুই বছর পর আবারও সেই জুলাই ফিরে এসেছে। তবে এবার সড়কে দাবি আদায়ের আন্দোলন হিসেবে নয়; ফিরে এসেছে স্মৃতিচারণ, শোক, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনার উপলক্ষ হয়ে।
জুলাইয়ের দেয়ালগুলো আবার গ্রাফিতিতে ভরে উঠবে। শহীদদের স্মরণে আলো জ্বলবে। সভা-সমাবেশে উচ্চারিত হবে বিচার, সংস্কার ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের দাবি।
একসময় যে জুলাই ছিল আন্দোলনের নাম, আজ সেই জুলাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্মৃতি ও ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষারও প্রতীক।