
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তির দুই নেতা আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের সামনে দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রশক্তির এক নেতার অভিযোগ, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তার ওপর হামলা চালিয়েছেন।
আহতরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং শাখা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক উলফাতুর রহমান।
আবদুল্লাহ আল মামুনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উলফাতুর রহমান স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভাশীষ চৌধুরী বলেন, মামুনের মাথায় আঘাত ও ফোলা ছিল। এ কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকায় ব্রাজিল ও জাপানের ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় ইফতেখার দিশানের সঙ্গে ছাত্রদল নেতা মামুনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দিশানকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ওই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার রাতে শাহজালাল হলের সামনে মামুনের সঙ্গে দিশানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর আবারও কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এতে মামুন আহত হন। পরে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থী শাহজালাল হলে প্রবেশ করেন।
খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হলের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় হলের এক শিক্ষার্থীর অনুরোধে ছাত্রশক্তির নেতা উলফাতুর রহমান মোটরসাইকেলে করে দুই শিক্ষার্থীকে সেখান থেকে অন্যত্র নিয়ে যান।
পরে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা উলফাতুরকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উলফাতুর সেখানে গেলে তাকে মারধর করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
মারামারির খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের লাঞ্ছিত এবং দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের হেনস্তা করা হয়েছে বলেও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সোমবার খেলা দেখার সময় দিশান ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসে ধূমপান করছিলেন। তিনি বাধা দেওয়ায় দিশানসহ ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী মঙ্গলবার রাতে তার ওপর হামলা চালান।
কাউকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে মামুন ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
তবে ধূমপানের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইফতেখার দিশান। তিনি বলেন, সোমবার কোনো কারণ ছাড়াই মামুন তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয়।
মঙ্গলবার রাতের ঘটনা প্রসঙ্গে দিশান বলেন, শাহজালাল হলের সামনে মামুনের সঙ্গে তার আবার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
ছাত্রশক্তির নেতা উলফাতুর রহমান বলেন, এক শিক্ষার্থীকে শাহজালাল হল থেকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার পর ছাত্রদলের কয়েকজন তাকে ঘটনাস্থলে ডাকেন। সেখানে তাকে গলা চেপে ধরে মারধর করা হয় এবং তার মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া মতবিরোধ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং উভয় পক্ষকে আলোচনায় ডাকা হবে বলে জানান প্রক্টর।