প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 5, 2026 ইং
টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ আবেদন ঝুলে আছে, অনুমোদনের অপেক্ষায় দুদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন প্রক্রিয়া এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি দুদক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার চার্জশিট ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইংরেজিতে অনুবাদ এবং নোটারি সম্পন্ন হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনটি ইন্টারপোলে পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। ফলে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে।
প্রায় চার মাস আগে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত। এর আগে ফ্ল্যাট জালিয়াতির মামলায় দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর আদালতে এ আবেদন করেন।
অভিযোগে বলা হয়, টিউলিপ তাঁর খালা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করেন এবং অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করে গুলশানে একটি ফ্ল্যাট দখল নেন। মামলার আগেই তিনি দেশত্যাগ করেন এবং প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, আদালতের আদেশের পর প্রয়োজনীয় নথিপত্র দুদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
দুদক সূত্র বলছে, কমিশন না থাকার কারণে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদন প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক জটিলতায় রেড নোটিশের আবেদনটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
অন্য একটি সূত্র জানায়, তদন্ত কর্মকর্তা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও সংবেদনশীল বিবেচনায় ফাইলটি আইন শাখার যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। ঊর্ধ্বতন অনুমোদন মিললেই এটি পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে ইন্টারপোলে পাঠানো হবে।
দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম জানান, টিউলিপ সিদ্দিককে গ্রেপ্তারে রেড নোটিশ জারির আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পর্যাপ্ত তথ্য বা রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ও এখানে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যসহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশের আবেদন করেছে দুদক।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭