প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 6, 2026 ইং
সার্ক সক্রিয় করার উদ্যোগ নিচ্ছে ঢাকা : শামা ওবায়েদ

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) অবশ্যই দ্বিপক্ষীয় বিবাদ থেকে মুক্ত রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
আজ সোমবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘রি-বিল্ডিং ট্রাস্ট, রি-নিউয়িং রিজিওনাল ইন্টিগ্রেশন: পাথওয়েজ ফর রিভাইটালাইজিং সার্ক’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার্ক সনদে উল্লেখ আছে যে দ্বিপক্ষীয় ও বিতর্কিত বিষয় আলোচনায় আনা যাবে না। এ নীতিটি আবারও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তার ভাষ্য, সার্কের মাধ্যমে দুটি দেশকে রাজনৈতিক সংলাপে বাধ্য করা উচিত নয়। বরং এর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত, দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা যেন আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতিটি ক্ষেত্রকে স্থবির করে না দেয়।
সার্ককে অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষিণ এশীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে টিকে থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, সার্কের মূল্য নিহিত আছে সহযোগিতামূলক কাঠামোর মধ্যে এবং পুরো অঞ্চলকে একসঙ্গে নিয়ে আসার সক্ষমতায়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সব সদস্যের জন্য দরজা খোলা রাখা উচিত। পাশাপাশি এটিও নিশ্চিত করা দরকার, যেন পারস্পরিক প্রযুক্তিগত ও উন্নয়নমূলক সহযোগিতা বজায় থাকে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সার্ক এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ছোট রাষ্ট্রগুলো সম্মিলিতভাবে কথা বলতে পারে; ভারত গঠনমূলক আঞ্চলিক নেতৃত্ব প্রদর্শন করতে পারে; পাকিস্তান বৃহত্তর দক্ষিণ এশীয় কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে এবং রাজনৈতিক বিবাদ অমীমাংসিত থাকলেও যৌথ সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করা যায়।
বাংলাদেশের জন্য সার্ককে ইতিহাস ও ভবিষ্যতের সংযোগস্থল হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা আশাবাদী এবং একই সঙ্গে বাস্তববাদী। আমরা দাবি করছি না, সার্ক রাতারাতি পূর্ণ রাজনৈতিক স্বাভাবিকতায় ফিরে আসতে পারবে। আবার হতাশাবাদী দাবিও মেনে নিচ্ছি না যে, কিছুই করা সম্ভব নয়।’
তিনি জানান, আগামী মাসগুলোতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আস্থা তৈরির একগুচ্ছ উদ্যোগ বিবেচনা করছে ঢাকা। এর মধ্যে ঢাকায় অবস্থানরত সার্কভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং কাঠমান্ডুতে সার্ক সচিবালয়ের সঙ্গে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এ ছাড়া সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠক এবং মন্ত্রিপরিষদের একটি বিশেষ অধিবেশন আয়োজনের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
শামা ওবায়েদ বলেন, সার্ক আজ দক্ষ নেতৃত্ব, বাস্তবমুখী সহযোগিতা এবং নতুন আত্মবিশ্বাসের অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশ সেই আত্মবিশ্বাস তৈরিতে অবদান রাখতে প্রস্তুত।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭