প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 8, 2026 ইং
ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ‘শেষ’ বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়। এর ফলে তেলের দাম গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
লন্ডন ও নিউ ইয়র্কের জ্বালানি পণ্য বাজারের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৮২ ডলার বা ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়ে ৭৭ দশমিক ৯৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৭০ ডলার বা ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে ৭৪ দশমিক ১৪ ডলারে পৌঁছেছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, গত ২৩ জুনের পর জ্বালানি তেলের বাজারে এটিই সবচেয়ে বড় দ্রুত উল্লম্ফনের একটি।
এর আগে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল বিক্রির ওপেন লাইসেন্স বা বিশেষ ছাড় বাতিল করে। ওই সিদ্ধান্তের পর সেদিনই তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছিল।
বুধবার আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে করা অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতাকে ‘মৃত’ ও ‘সময় নষ্ট’ বলে মন্তব্য করেন। তার এ ঘোষণার পর বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসইবির প্রধান পণ্য বিশ্লেষক বিয়ারনে শিলড্রপ সতর্ক করে বলেছেন, চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ৬০ দিনের শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম দ্রুত প্রতি ব্যারেল ৮০ ডলারের ঘর ছুঁতে পারে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে কাতার ও সৌদি আরবের তেল ট্যাঙ্কারে সন্দেহভাজন ড্রোন হামলা এবং এর জবাবে দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলার পর রুটটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা পিভিএম জানিয়েছে, ইরান ইতোমধ্যে বলেছে, তাদের নির্ধারিত ও সমন্বিত রুট ছাড়া হরমুজ প্রণালীতে অন্য কোনো পথ নিরাপদ নয়। এই সতর্কতার পর আন্তর্জাতিক রুটের অন্তত চারটি বড় তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার প্রণালীটি পার না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং মাঝসমুদ্র থেকে পথ পরিবর্তন করেছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
রয়টার্স আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুদ গত সপ্তাহেও কমেছে। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে মার্কিন তেল মজুদ প্রায় ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ব্যারেল কমবে বলে ধারণা করা হলেও প্রকৃত ঘাটতি আরও বেশি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭