প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 9, 2026 ইং
আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের রেফারিং বিতর্কে ফিফার ব্যাখ্যা

আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে রেফারিং নিয়ে বিতর্কের পর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা বলেছেন, ম্যাচ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নেওয়া হয় এবং তা কোনো বাইরের প্রভাবের শিকার নয়।
ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। পরে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। তবে মিসরের একটি গোল বাতিল এবং শেষ দিকে পেনাল্টির দাবি নাকচ হওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কোচ হোসাম হাসান ও মিসরের খেলোয়াড়রা। রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও ভিএআরের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে কোলিনা বলেন, বিশ্বকাপের আর মাত্র আটটি ম্যাচ বাকি। সামগ্রিকভাবে রেফারিংয়ের মান নিয়ে ফিফা সন্তুষ্ট। এত কম সময়ে অনেক ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় পরিকল্পনামতো নাও হতে পারে, তবে সেসব অভিজ্ঞতা থেকে ম্যাচ কর্মকর্তারা নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করেন।
রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিষয়ে কোলিনা বলেন, রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হতে পারে। তবে ভিত্তিহীন অভিযোগের জায়গা নেই। ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। এ ধরনের অভিযোগ অনেক সময় তাদের ও তাদের পরিবারের জন্যও হুমকির কারণ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও রেফারিদের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেন না। তার ভাষায়, ম্যাচ কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং খেলোয়াড় ও কোচদের মতো তারাও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।
মিসরের বাতিল হওয়া গোলের প্রসঙ্গে কোলিনা জানান, প্রতিটি গোলের আগে আক্রমণভাগের বল দখলের পুরো ধাপ বা অ্যাটাকিং পজেশন ফেজ ভিএআর পরীক্ষা করে। গোলের আগে কোনো ফাউল শনাক্ত হলে এবং সেটি গোলের সঙ্গে সম্পর্কিত হলে রেফারিকে মাঠের পাশে গিয়ে ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঘটনাটি গোলের কত আগে বা কত দূরে ঘটেছে, তা এখানে মুখ্য নয়।
আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের নির্দিষ্ট ঘটনা ব্যাখ্যা করে কোলিনা বলেন, মিসরের ১৯ নম্বর জার্সিধারী মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন। ফিফার দৃষ্টিতে এটি ফাউল। রেফারি মাঠে সেটি না দেখলেও ভিএআর তা শনাক্ত করে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
শেষ দিকে মোহাম্মদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের সংস্পর্শে মিসরের পেনাল্টির দাবির বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন কোলিনা। তিনি বলেন, কোনো ডিফেন্ডার আগে বল স্পর্শ করলে এবং পরে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ ঘটলে সেটি ফাউল হিসেবে ধরা হয় না। ওই ঘটনাতেও রেফারি ও ভিএআর সেটিকে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
তবে কোলিনা স্বীকার করেন, কিছু সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত বিচার-বিশ্লেষণের সুযোগ থাকে। তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে একই নীতির ধারাবাহিক প্রয়োগে ফিফা সন্তুষ্ট বলে জানান সাবেক এই ইতালিয়ান রেফারি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭