প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 13, 2026 ইং
তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিয়ে জয়ের পথে বিজয় সরকার

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে ঈদুল আজহাসহ যেকোনো দিনে গরু কিংবা বাছুর জবাইয়ের ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
সোমবার (১৩ জুলাই) ভারতের সর্বোচ্চ আদালত এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত বলেছেন, হাইকোর্টের আগের নির্দেশনায় বড় ধরনের সংশোধন প্রয়োজন।
অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম বা টিভিকে সরকার মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিল।
এর আগে ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের আগস্টে জারি করা একটি সরকারি আদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তামিলনাড়ুজুড়ে গরু জবাই নিষিদ্ধ করতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
হাইকোর্টের ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে বলেন, বিদ্যমান আইনে নির্দিষ্ট স্থান ও শর্তে কিছু শ্রেণির গবাদিপশু জবাইয়ের অনুমতি রয়েছে। ফলে আইন ও বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিচারিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকতে পারে না।
মাদ্রাজ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণন। দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে ১৯৭৬ সালের সরকারি আদেশের ভিত্তিতে তারা ওই রায় দিয়েছিলেন।
রায়ে বিচারপতি স্বামীনাথন ভারতীয় সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেন, গবাদিপশু ও দুগ্ধজাত পশু সংরক্ষণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ভারতীয় সভ্যতায় দীর্ঘদিন ধরে গরুকে পবিত্র ও শ্রদ্ধেয় প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরোধিতা করে সংখ্যালঘু ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতারা দাবি করেন, তামিলনাড়ুর মুসলিম সম্প্রদায় স্থানীয় নিয়ম মেনে ঈদুল আজহায় ব্যক্তিগত আঙিনা ও ধর্মীয় জমায়েতে পশু কোরবানি দিয়ে থাকে। পাশাপাশি অনেক হিন্দু মন্দিরের বার্ষিক উৎসবেও পশু বলির ঐতিহ্য রয়েছে।
সামাজিক নেতাদের দাবি, এসব ধর্মীয় আচার শুধু লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানায় সীমাবদ্ধ রাখা বাস্তবসম্মত নয়। উৎসবের সময় বাড়তি চাহিদা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা সরকারি কসাইখানাগুলোর নেই বলেও তারা জানান।
তামিলনাড়ু সরকার আদালতকে জানিয়েছে, রাজ্যে পশু সংরক্ষণ ও কসাইখানা-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন পশু জবাইয়ের স্থান ও শর্ত নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এসব আইনে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কোনো বিধান নেই।
সূত্র: এনডিটিভি
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭