প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 14, 2026 ইং
এমসি কলেজে ছাত্রলীগের ধর্ষণ:একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে স্বামীর সঙ্গে এমসি কলেজ এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই গৃহবধূ। সেখান থেকে তাকে জোর করে কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন তৎকালীন কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী ।
পরদিন ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় মামলা করেন। মামলায় সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজনকে আসামি করা হয়।
ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ছয়জন ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র্যাব।
গ্রেপ্তারের পর আট আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম তারেক, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি ও অর্জুন লস্কর ধর্ষণে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ধর্ষণে সহায়তার কথা স্বীকার করেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আট আসামির মধ্যে ছয়জনের নমুনার সঙ্গে আলামতের মিল পাওয়া যায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার দুই মাস আট দিন পর ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে ১৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। অভিযোগপত্রে ৫২ জনকে সাক্ষী করা হয়।
২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। পরে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।
বিচার চলাকালে ভুক্তভোগী, তার স্বামী, ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। সাক্ষ্য, আলামত ও ডিএনএ প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭