প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 14, 2026 ইং
যশোরে বৃদ্ধার জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

যশোরের শার্শা উপজেলায় চাকরির প্রভাব খাটিয়ে এক বৃদ্ধার পৈতৃক জমি দখল করে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে তার বাড়ি নির্মাণকাজ বন্ধ করা এবং প্রতিবাদ করায় খুন-জখমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আনোয়ারা খাতুন ফেরদৌসী খাতুন, আব্দুল্লাহ ও লিটনের নাম উল্লেখ করে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কন্যাদহ গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ারা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি ভোগদখল করে আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার্থে তিনি আগে নিজের জমির একটি অংশ রাস্তার জন্য ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবে এরপরও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তার আরও জমি দখল করে নতুন রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
আনোয়ারা খাতুনের দাবি, গত ১০ জুন দুপুরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার চাচাতো ভাই-বোনেরা জোর করে জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছেন। তিনি বাধা দিলে কাজ বন্ধ না করে তাকে হয়রানি এবং খুন-জখমসহ বিভিন্ন ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ফেরদৌসী খাতুন উপজেলার একটি সরকারি দপ্তরে কর্মরত। তিনি চাকরির প্রভাব ও প্রশাসনিক যোগাযোগ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে আনোয়ারা খাতুন অভিযোগ করেছেন।
এক প্রতিবেশীর দাবি, মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনের সহযোগিতায় আনোয়ারা খাতুনের বাড়ি নির্মাণের কাজও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আনোয়ারা খাতুন বলেন, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করা হলে তিনি মূল্যবান জমির একটি অংশ হারাবেন বলে আশঙ্কা করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ফেরদৌসী খাতুনের বক্তব্য জানতে সাংবাদিক উপজেলা কার্যালয়ে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭