প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 14, 2026 ইং
হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯০

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
মৃত শিশুদের মধ্যে একজনের হাম শনাক্ত হয়েছিল। বাকি ছয় শিশুর হামের উপসর্গ ছিল।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৯৯০ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২২ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে।
হাম শনাক্ত হওয়া শিশুটি ঢাকায় মারা গেছে। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ছয় শিশুর মধ্যে চারজন ঢাকার এবং দুজন সিলেটের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৬৭১ শিশু এবং হাম শনাক্ত হওয়ার পর ৯৫ শিশু মারা গেছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬৬।
একই সময়ে ১ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ শিশুর হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৭৩৫ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে।
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৬ হাজার ২৭ শিশু। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯২ হাজার ৩৮৩ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ৮৩১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৯০০ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত আড়াই দশকে দেশে হামের সংক্রমণ কখনো ৫০ হাজার ছাড়ায়নি। এর আগে ২০০৫ সালে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ৯৩৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৫ সালে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৩২।
চলতি বছরের শুরুতে দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, টিকার ঘাটতি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দুর্বলতা, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং গণটিকাদানে বিলম্ব পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ার অন্যতম কারণ।
গত ২০ মে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য টিকা সংকটের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করেছিল সংস্থাটি। টিকা কেনার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের কারণে সময়মতো টিকা দেশে আসেনি বলে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
পরবর্তী সময়ে জাতীয় এমআর টিকাদান কর্মসূচিতে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১ কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৬ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। তবে একই বয়সী শিশুদের জন্য পরিচালিত ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়েছিল ২ কোটি ২৩ লাখের বেশি শিশু।
এই হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ৪০ লাখ শিশু এমআর টিকাদান কর্মসূচির বাইরে ছিল। ফলে এখনো বিপুলসংখ্যক শিশু হামের সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গণটিকাদান কর্মসূচির দুই মাসের বেশি সময় পরও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং শিশুমৃত্যুর ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭