প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 15, 2026 ইং
গণকবর ও নদীতে ভাসানো মরদেহ শনাক্ত হলে শহীদের সংখ্যা ১৪০০ ছাড়াতে পারে: চিফ প্রসিকিউটর

দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা গণকবর এবং নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া মরদেহ শনাক্তের কাজ শেষ হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা এক হাজার ৪০০ ছাড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধসংলগ্ন কবরস্থানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের গণকবর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
পরিদর্শনের সময় চিফ প্রসিকিউটর শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন।
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের তালিকায় এখন পর্যন্ত সরকারি গেজেটে ৮৬৫ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে গণকবর ও নদীতে পাওয়া অনেক মরদেহ এখনো শনাক্ত হয়নি এবং গেজেটেও যুক্ত হয়নি।
তিনি বলেন, জুরাইন, মাতুয়াইল, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গণকবর শনাক্তের কাজ চলছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সেখানে দাফন করা ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি প্রতিবেদন পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, একটি হাসপাতাল থেকে অনেক মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ওই মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তেও কাজ চলছে।
তিনি বলেন, গণকবর ও নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের কাজ শেষ হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মোট শহীদের সংখ্যা এক হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ ঘটনায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বলেও জানান তিনি।
বিচার প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালীই হোক, তাঁদের বিচারের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর আলামত নষ্ট ও মরদেহ গুম করার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে শহীদ পরিবারগুলোকে আশ্বস্ত করেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানসংক্রান্ত কোনো তথ্য কারও কাছে থাকলে তা প্রসিকিউশনকে দিয়ে তদন্তে সহায়তা করার আহ্বানও জানান চিফ প্রসিকিউটর।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭