প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 15, 2026 ইং
বায়ুদূষণে ছয় শহরে প্রতিদিন ২৪২ জনের অকালমৃত্যু: জাবির গবেষণা

সূক্ষ্ম বস্তুকণা বা পিএম ২.৫ দূষণের কারণে দেশের ছয়টি প্রধান শহরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪২ জনের অকালমৃত্যু হচ্ছে বলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে। একই কারণে বছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশের সমান।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ক্লাইমেট চেঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ ইউনিট গবেষণাটি পরিচালনা করেছে। গবেষণা দলের নেতৃত্ব দেন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন। গবেষণাপত্রটি তেহরানভিত্তিক ‘Pollution’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশালের বায়ুদূষণের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, পিএম ২.৫ দূষণের কারণে ছয় শহরে বছরে আনুমানিক ৮৮ হাজার ২৪০ জনের অকালমৃত্যু হচ্ছে। এর মধ্যে হৃদ্রোগে ৩৭ হাজার ৫৯১ জন, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে ৮ হাজার ৩৪৪ জন এবং ফুসফুসের ক্যানসারে ৮১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শহরগুলোর মধ্যে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি অকালমৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। রাজধানীতে পিএম ২.৫ দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬৮ হাজার ৭০৩। এরপর চট্টগ্রামে ১১ হাজার ২০২ জন, রাজশাহীতে ২ হাজার ৮২৭ জন, খুলনায় ২ হাজার ৬২৫ জন, সিলেটে ১ হাজার ৪৮৮ জন এবং বরিশালে ১ হাজার ৩৯৫ জনের অকালমৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ছয় শহরে সূক্ষ্ম বস্তুকণাজনিত অকালমৃত্যু ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ঢাকায়। সেখানে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৪ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু বায়ুদূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অকালমৃত্যুর পাশাপাশি কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশের অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
গবেষণা দলের প্রধান ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বায়ুদূষণকে আমরা দীর্ঘদিন শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে দেখেছি। আমাদের গবেষণা বলছে, এটি এখন জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। বছরে প্রায় ৮৮ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু এবং জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বায়ুমান নির্দেশিকা বাস্তবায়ন, শিল্পকারখানা ও যানবাহন থেকে সূক্ষ্ম বস্তুকণা নিঃসরণ কমানো, নগর বায়ু ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং সমন্বিত পরিবেশনীতি গ্রহণের মাধ্যমে বায়ুদূষণজনিত মৃত্যু ও অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭