
বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দিল্লির প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, “দেশের রাজনীতিতে গণ্ডগোল পাকানো, জুলুম করানো এবং কে ক্ষমতায় যাবে বা যাবে না—সবকিছুর রিমোট কন্ট্রোল দিল্লিতে।”
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে জেলা জামায়াত আয়োজিত সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, জেনেভা কনভেনশন, বন্দিবিনিময় আইনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে দিল্লিতে প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধাসহ অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জামায়াত সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ন্যায্য সম্পর্ক চায়। তবে কোনো দেশ বাংলাদেশের রাজনীতি, সরকার ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী পদক্ষেপ নিলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি ট্রাইব্যুনাল, আইন ও সরকারের এখতিয়ারভুক্ত। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশের জনগণ কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তিকে বরদাশত করবে না।
বিএনপির সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, দলটি এখন সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের কথা বলছে। অথচ তাদের ঘোষিত ৩১ দফার প্রথম দফায় সংবিধান সংস্কারের জন্য কমিশন গঠনের অঙ্গীকার ছিল।
তার অভিযোগ, অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে বিএনপি জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষা করতে পারেনি।
চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডেকে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি কার্যকর করার দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা। অন্যথায় রাজপথে আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও দেশে হত্যা, নির্যাতন ও শিশু ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
বন্যাকবলিত মানুষের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছানো এবং উদ্ধার ও পুনর্বাসনে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নরসিংদী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সংগঠক মো. ইব্রাহিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা আ ফ ম আব্দুস সাত্তার ও মশিউল আলমসহ কেন্দ্র ও জেলার নেতারা।
সম্মেলনের আগে জেলার রুকনদের নিয়ে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।