প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 18, 2026 ইং
স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে ইসিতে জামায়াতের প্রস্তাব

সরকারের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতা-কর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দলটি এ প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনী আচরণবিধিতে এ-সংক্রান্ত বিধান যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াত।
দলটির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতা-কর্মীকে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা হোক।
জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের শনিবার (১৮ জুলাই) গণমাধ্যমকে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো দলের নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। এ কারণেই নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও কয়েকটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সেগুলো বিবেচনা করবে বলে জামায়াত আশা করছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটি ও এর নেতাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানানো হয়।
পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করায় দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
সরকার আগামী অক্টোবরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া আয়োজনের পরিকল্পনা থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের জন্য খসড়া আচরণবিধি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই নিষিদ্ধ দলের নেতাদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত।
দলটি নির্বাচনী প্রচারে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার বিধান আরও স্পষ্ট করার প্রস্তাবও দিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে নীতিমালা প্রণয়ন, প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রাখা, নির্বাচনী ক্যাম্পে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুস্পষ্ট বিধান এবং ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।
জামায়াত আরও দুটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত নারী সদস্যপদ বাতিল করে প্রতিটি ওয়ার্ডে নারী সদস্যদের সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
অন্য প্রস্তাবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনে ভোটার নির্ধারণের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭