প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 19, 2026 ইং
ট্রাম্পকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরও ইরানের ওপর মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর ‘মূল্যহীন’ এবং ধমক ও জবরদস্তিই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মূল উপাদান।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মোজতবা খামেনির পক্ষে পাঠ করা এক বিশেষ লিখিত বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সমঝোতার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের বারবার চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ‘সম্পূর্ণ মূল্যহীন’। ধমক, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতাকে মার্কিন মতবাদ ও পররাষ্ট্রনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেও উল্লেখ করা হয়।
খামেনির দাবি, সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রকৃত চেহারা প্রকাশ করেছে। এতে দেশটির ‘প্রতারণা, অযৌক্তিকতা ও অবিশ্বস্ততা’ আবারও সামনে এসেছে।
ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ পেতে হবে।
তিনি দাবি করেন, ইরানের জনগণ ও ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।
বিবৃতিতে খামেনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনগণ ও রাষ্ট্রের সব স্তরের মধ্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং অপরাধী ও ধূর্ত মার্কিন শত্রুর বিরুদ্ধে ইরানের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা করা।’
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক সময়ে বিজয় অর্জনের চাবিকাঠি হলো জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং বিভেদ ও মতবিরোধ এড়িয়ে চলা।’
এর আগে গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর লক্ষ্য ছিল স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি করা।
সমঝোতা স্মারকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সই করেন। পরে তেহরান ও ওয়াশিংটন পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে এবং সমঝোতাটি ‘বাতিল’ বলে ঘোষণা করে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭